• বাবা কাঠমিস্ত্রি, ছিল না কোচিংয়ের টাকা, নিজের জেদেই NEET-এ সফল অজয়, চরম অভাব সামলে কীভাবে সাফল্য?
    News18 বাংলা | ২১ জুলাই ২০২৬
  • বাবা পেশায় সাধারণ কাঠমিস্ত্রি। হাড়ভাঙা খাটুনিতে দিন আনা, দিন খাওয়া সংসার। তবে অভাবের সংসারে শত কষ্ট থাকলেও ছেলের পড়াশোনায় কখনও তার আঁচ পড়তে দেননি তিনি। আর সেই পরিশ্রমে জল ঢালেনি ছেলেও। নিজের অদম্য জেদ আর কঠোর পরিশ্রমে ভর করে সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’-এ (NEET) অভাবনীয় সাফল্য ছিনিয়ে আনল সে। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার দেউলি গ্রামের বাসিন্দা পূর্ণচন্দ্র জানা ও মমতা জানার একমাত্র ছেলে অজয়ের এই সাফল্যে এখন খুশির হাওয়া গোটা গ্রামে।

    ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র হিসেবেই পরিচিত অজয়। তার এক আত্মীয় ডাক্তারি পড়ছেন, আর এক দিদি নার্সিংয়ের ছাত্রী। মূলত তাঁদের দেখেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বুনতে শুরু করে সে। একাদশ শ্রেণিতে ওঠার পর থেকেই শুরু হয় সেই স্বপ্নের উড়ান। পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকা এবং ফুটবল খেলাতেও তার যথেষ্ট আগ্রহ। তবে ডাক্তারি পড়ার লক্ষ্য স্থির করার পর রাত জেগে চলত তার কঠোর প্রস্তুতি। কাঠমিস্ত্রির সামান্য আয়ে সংসার চালানোই যেখানে দায়, সেখানে দামি বই বা নোট কেনা তো কার্যত বিলাসিতা! সাধারণ পুষ্টিকর খাবারটুকুও হয়তো সব সময় জুটত না। তবে ছেলের এই লড়াইয়ে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বাবা পূর্ণচন্দ্র এবং মা মমতা। অভাব বুঝতে না দিয়ে নিজেদের সবটুকু দিয়ে তাঁরা চেষ্টা করেছেন ছেলের স্বপ্ন পূরণের।বাবা মায়ের স্বপ্ন ছেলে বড় ডাক্তার হয়ে এলাকার মানুষের সেবা করুক।

    অজয়ের এই লড়াইয়ে অভিভাবকের মত পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। দামি কোচিং সেন্টারে পড়ার সামর্থ্য ছিল না, তাই শিক্ষকদের সাহায্য আর নিজের একাগ্রতাকে সম্বল করেই দিনরাত এক করে একা একাই অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছে সে। কখনও হার মানেনি। সম্প্রতি নিট-এর ফলাফল প্রকাশিত হতেই দেখা যায়, সর্বভারতীয় স্তরের পাশাপাশি নিজের ক্যাটাগরিতেও তাক লাগানো র‍্যাঙ্ক করেছে অজয়। তার এই সাফল্যে গর্বিত বাবা-মা থেকে শুরু করে গ্রামের সকলেই।অজয় যেন আবারও প্রমাণ করে দিল, প্রবল ইচ্ছেশক্তি আর কঠোর অধ্যবসায় থাকলে দারিদ্র কখনওই সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। এখন শুধুই বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে অজয়ের সাদা অ্যাপ্রন আর স্টেথোস্কোপ পরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন সকলে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)