জমি দখলমুক্ত রাখতে 'মাস্টারপ্ল্যান', সঙ্গে বেকারদের কর্মসংস্থান! জানলে আপনারও কাজে লাগবে
News18 বাংলা | ২১ জুলাই ২০২৬
বছরের পর বছর নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন জায়গায় গাছ লাগিয়েছেন। কিছু গাছ আজ বড় হয়ে ছায়া দিচ্ছে, আবার পরিচর্যার অভাবে কিছু গাছ হারিয়েও গিয়েছে। তবুও থেমে থাকেননি তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নিয়েছিল আরও বড় স্বপ্ন। একসঙ্গে হাজার হাজার গাছ লাগিয়ে একটি সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। অবশেষে সেই বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে শিলিগুড়ির প্রকাশ নগরে শুরু হয়েছে ২,০২৬টি বৃক্ষরোপণের এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। আর এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন পেশায় ব্যবসায়ী ও পরিবেশপ্রেমী উত্তম চ্যাটার্জি। শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রকাশ নগর এলাকায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে শিলিগুড়ি পুরনিগম, ডিএফও এবং সারুগড়া বৈকুণ্ঠপুর বন বিভাগ।
বৃক্ষরোপণের জন্য সরকারি জমি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে পুরনিগম। প্রশাসনের মতে, ফাঁকা সরকারি জমি দখল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই জায়গাকেই সবুজায়নের কাজে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন দফতরও বিপুল সংখ্যক চারা গাছ সরবরাহ করে এই উদ্যোগকে বাস্তবায়িত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এই কর্মযজ্ঞ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, স্থানীয় মানুষের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। আশপাশের এলাকার প্রায় ১০ থেকে ১২ জন মানুষ এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। কেউ গাছ লাগানোর কাজে, কেউ পরিচর্যায়, আবার কেউ সংরক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন।
তাঁদের পারিশ্রমিক থেকে শুরু করে পুরো প্রকল্পের সমস্ত ব্যয় নিজেই বহন করছেন উত্তম চ্যাটার্জি। পাশাপাশি বন দফতরের কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষরোপণের কাজে সহযোগিতা করছেন। উত্তম চ্যাটার্জি জানান, এই উদ্যোগ একদিনে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। বহুদিন আগে তিনি কলকাতার স্পেশাল ডিউটি অফিসারের কাছে বিশেষভাবে আবেদনপত্র পাঠিয়েছিলেন, যাতে এত বড় পরিসরে বৃক্ষরোপণের অনুমতি ও সহযোগিতা পাওয়া যায়। সেই আবেদন বাস্তবায়িত হওয়ার পর তিনি বিশেষভাবে ডিএফও-কে ধন্যবাদ জানান বিপুল সংখ্যক চারা গাছের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। একই সঙ্গে শিলিগুড়ি পুরনিগমকেও কৃতজ্ঞতা জানান উপযুক্ত জমি দেওয়ার জন্য। তাঁর কথায়, গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ নয়, বরং আসল কাজ শুরু হয় তার পরেই।
বন দফতরও শর্ত দিয়েছে, এই ২,০২৬টি গাছের নিয়মিত পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও বড় করে তোলার দায়িত্ব তাঁকেই নিতে হবে। সেই দায়িত্ব তিনি স্বেচ্ছায় গ্রহণ করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, আজ লাগানো এই চারা একদিন বড় হয়ে শুধু পরিবেশকেই সমৃদ্ধ করবে না, আগামী প্রজন্মের জন্যও এক সবুজ উত্তরাধিকার তৈরি করবে। কোনও এনজিও বা সংগঠনের ব্যানারে নয়, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগ, নিজের অর্থায়ন এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ইতিমধ্যেই শিলিগুড়িতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এক ব্যক্তির স্বপ্ন যে হাজারো সবুজ প্রাণের জন্ম দিতে পারে, উত্তম চ্যাটার্জির এই উদ্যোগ যেন তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।