• দিল্লি হাইকোর্টে জয় সোনমের স্ত্রীয়ের, বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পক্ষে রায় বিচারপতিদের
    এই সময় | ২১ জুলাই ২০২৬
  • দিল্লি হাইকোর্টে স্বস্তি সোনম ওয়াংচুকের। ২০ দিনের অনশনের পরে সোনমকে দিল্লির যন্তরমন্তর থেকে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপরেই সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো সোনমকে সফদরজং হাসপাতাল থেকে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার আবেদন জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেছিলেন। মঙ্গলবার সেই মামলার রায়ে ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতিরা জানিয়েছেন, সোনমকে মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে পরবর্তী চিকিৎসা করা যেতে পারে।

    পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে তাঁর পছন্দের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো। প্রথমে দিল্লি হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ এই আর্জি মানতে অস্বীকার করেছিল। এরপরে সোমবার ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করে জরুরি শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী। গীতাঞ্জলির অভিযোগ ছিল, হাসপাতালে সোনমকে কার্যত কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে। তাঁকে স্বাধীন ভাবে মেডিক্যাল টেস্ট করানোর বা চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এই কারণেই তিনি আদালতের হস্তক্ষেপ চান।

    মঙ্গলবারের শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, সোনমকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা নিয়ে সরকারের কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু, তিনি বিচারপতিদের অনুরোধ করেন যাতে সোনমকে চিকিৎসকদের অনুমতি ছাড়া অসুস্থ শরীরে স্থানান্তরিত না করা হয় তা নিশ্চিত করতে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সোনমকে হাসপাতালের বাইরে বের করে আনতে চাইছেন আন্দোলনকারীদের একাংশ। তাঁর আশঙ্কা, সোনমকে চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া সফদরজং হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরিত করার চেষ্টার করা হলে তাঁর শরীর আগের থেকে খারাপ হতে পারে। তুষার মেহতা বলেন, ‘উনি (সোনম) চাইলেই নিজের পছন্দ মতো হাসপাতাল এবং চিকিৎসক বেছে নিতে পারেন। কিন্তু, চিকিৎসকদের অনুমতি ছাড়া ওঁর যাওয়া উচিত হবে না। উনি বিক্ষোভের জায়গায় ফিরে গেলে কী হবে? সোনমের এমন ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।

    শুনানি চলাকালীন ডিভিশন বেঞ্চে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়া জানান, ওয়াংচুকের বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি এবং মেডিক্যাল রিপোর্ট খতিয়ে দেখে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, সোনমের নিরবিচ্ছিন্ন মেডিক্যাল সাপোর্ট প্রয়োজন। চিকিৎসকদের একাংশ জানিয়েছেন, সোনমকে এখন যে কোনও হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা করা যেতে পারে।

    মঙ্গলবারের মামলায় বিচারপতিরা সোনমকে সফদরজং হাসপাতাল থেকে মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পক্ষে রায় দিয়েছেন। এর পাশাপাশি সফদরজং হাসপাতাল থেকে সোনমের সমস্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট মেদান্ত হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, ওয়াংচুককে চিকিৎসা করানোর জন্য চিকিৎসকদের একটি বিশেষ প্যানেল তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পরেই সোনমের স্ত্রী এক্সে একটি পোস্ট করেছেন। সেই পোস্টে তিনি দিল্লি হাইকোর্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সোনমের লিগ্যাল টিমকেও তিনি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সোনমের স্ত্রী জানিয়েছেন, ‘অবিশ্বাস্য প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এই জয় এসেছে।’

    FAQ

    সোনম ওয়াংচুককে কেন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল?

    দিল্লির যন্তরমন্তরে টানা ২০ দিন অনশন করার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

    সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো দিল্লি হাইকোর্টে কেন মামলা করেছিলেন? গীতাঞ্জলি অ্যাংমোর অভিযোগ ছিল, সফদরজং হাসপাতালে সোনমকে কার্যত কড়া পুলিশি প্রহরার মধ্যে রাখা হয়েছে। তাঁকে স্বাধীনভাবে মেডিক্যাল টেস্ট করানো বা নিজের পছন্দমতো চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এই কারণে তিনি সোনমকে তাঁদের পছন্দের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চান।

    দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ কী রায় দিয়েছে?

    প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ রায় দিয়েছে যে, সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতাল থেকে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা যাবে। এর পাশাপাশি, সফদরজং হাসপাতালকে সোনমের সমস্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট মেদান্ত হাসপাতালে পাঠানোর এবং তাঁর চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের একটি বিশেষ প্যানেল তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    স্থানান্তরের বিষয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা কী যুক্তি দিয়েছিলেন?

    সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান যে, সোনমকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করায় সরকারের কোনও আপত্তি নেই। তবে তাঁর আশঙ্কা ছিল, আন্দোলনকারীদের একাংশ তাঁকে চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়াই হাসপাতাল থেকে বের করে বিক্ষোভের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে, যা তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটাতে পারে। তাই তিনি চিকিৎসকদের অনুমতি ছাড়া তাঁকে স্থানান্তরিত না করার অনুরোধ করেছিলেন।

    সিঙ্গল বেঞ্চ কি শুরুতেই এই আবেদন মেনে নিয়েছিল?

    না, প্রথমে দিল্লি হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ এই আর্জি মানতে অস্বীকার করেছিল। এরপর সোমবার সোনমের স্ত্রী ডিভিশন বেঞ্চে জরুরি শুনানির আবেদন করেন।

    হাইকোর্টের রায়ের পর সোনমের স্ত্রীর প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

    রায় ঘোষণার পর গীতাঞ্জলি অ্যাংমো এক্সে পোস্ট করে দিল্লি হাইকোর্ট এবং সোনমের লিগ্যাল টিমকে ধন্যবাদ জানান। তিনি এই রায়কে ‘অবিশ্বাস্য প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে জয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।

  • Link to this news (এই সময়)