• ‘হুকিং বরদাস্ত নয়, বিদ্যুতের বকেয়া আদায় করুন’, নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর, চালু ‘বিদ্যুৎ প্রহরী’
    এই সময় | ২১ জুলাই ২০২৬
  • এ বার থেকে হুকিং বরদাস্ত হবে না। রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে কোনও নেতাও যদি হস্তক্ষেপ করেন, তা-ও শোনা হবে না। যেখানে যেখানে হুকিং চলে, অবিলম্বে বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দিতে হবে। মঙ্গলবার বিদ্যুৎ দপ্তরের সরকারি অনুষ্ঠানে গিয়ে এই কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি বিদ্যুতের বকেয়া আদায় নিয়েও দপ্তরকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে একটু নমনীয় হওয়ার বার্তা দিলেও মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ, শিল্প-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির যা বকেয়া রয়েছে, তা অবিলম্বে আদায় করতে হবে।

    বিদ্যুৎ চুরি রুখতে মঙ্গলবার ‘বিদ্যুৎ প্রহরী’ অ্যাপ উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। এই অ্যাপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ চুরি এবং হুকিংয়ের অভিযোগ জানানো যাবে। শুভেন্দুর হাতেই রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তর রয়েছে। সেই দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে কর্মী-আধিকারিকদের উদ্দেশে কিছু দিকনির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘আপনাদের জন্য কিছু নির্দেশ রয়েছে। এক, হুকিং বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত নয়। শাসকদলের নেতা হলেও তা শোনা হবে না। র‌্যান্ডম কাটতে থাকুন। দুই, বকেয়া বিল আদায় করুন। ইন্ডাস্ট্রিয়াল এবং কমার্শিয়াল, কোনও প্রতিষ্ঠানকেই ছাড় নয়। বিশেষ করে নেতাদের প্রতিষ্ঠান । তবে ডোমেস্টিকের ক্ষেত্রে আগে নোটিস দেবেন। বুঝিয়ে-শুনিয়ে, জানিয়ে তার পরে পদক্ষেপ। দেখবেন, পাস্ট পারফর্ম্যান্স কেমন। তিন, ধীরে ধীরে স্মার্ট মিটারের পথে হাঁটতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সূর্যঘর প্রকল্প এ বার বাংলায় শুরু হবে।’

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যে যে সব দপ্তর জনগণকে গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা দেয়, তার মধ্যে বিদ্যুৎ অন্যতম। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে এই দপ্তর অবহেলিত। তার বড় কারণ হলো, আগের সরকার ভাতার নীতিতে চলত। সেটাকেই অগ্রাধিকার দিত। কিন্তু নতুন সরকার জনগণকে পরিষেবা দেওয়ার বিষয়টিকেই বেশি অগ্রাধিকার দেবে। তা নজরে রেখে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, যেখানে যেখানে সাবস্টেশন প্রয়োজন, শীঘ্রই তা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি পুরোনো সাবস্টেশন রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।

    ঘন ঘন লোডশেডিং বা লো ভোল্টেজ়ের মতো সমস্যাও যাতে আগামী দিনে না থাকে, তার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ করারও নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। বলেছেন, ‘আমাদের রাজ্যে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকে। তার পরেও লোডশেডিং নামক বাম জমানার কিছু শব্দ এখনও শোনা যায়। এটা সরকারের পক্ষে মোটেই ভালো নয়। তার সঙ্গে লো ভোল্টেজ়ের সমস্যাও দূর করতে হবে।’ বিদ্যুতের তার যাতে মাটির নীচ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা যায়, সেই বিষয়টিও দেখতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল বোধহয় পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে কম। এই বিষয়টা দেখতে হবে। অনেক কাজ অর্ধেক হয়ে পড়ে রয়েছে। তা সম্পূর্ণ করা আমার কর্তব্য। এ ছাড়া, ভবিষ্যতে কোন কোন কাজ হবে, তার ডিপিআর (ডিটেল প্রজেক্ট রিপোর্ট)-ও তৈরি করতে হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়াও যাতে স্বচ্ছ হয়, েসটাও দেখতে হবে।’

    বিদ্যুৎ দপ্তরে নিয়োগ নিয়েও বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়েছেন, দপ্তরে ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য অনেক শূন্যপদ রয়েছে। তা পূরণ করা হবে। শুভেন্দুর কথায়, ‘ইঞ্জিনিয়ারের পোস্ট ফাঁকা। থার্ড পার্টি দিয়ে বিদ্যুৎ দপ্তর চলছে। আমাদের মেধাযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার দরকার। এমনিতেই নিয়োগ নিয়ে খুব বদনাম হয়ে গিয়েছে রাজ্যের। আমরা চাই ভ্যাকেন্সি ফুল করতে।’

    বিদ্যুৎ দপ্তরেও বদলিনীতি থাকা উচিত বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ দপ্তরে ট্রান্সফার থাকা উচিত। এক জায়গায় কেউ এত দিন ধরে থাকবেন না। যাঁদের তিন বছর হয়নি, তাঁরা ঠিক আছেন। কিন্তু যাঁদের তিন বছর হয়ে গিয়েছে, তাঁদের ব্যাপারটা দেখা হবে। বিবেচনা করা হবে। বদলিনীতি থাকা উচিত।’

  • Link to this news (এই সময়)