• ‘রাস্তার অবস্থা ভয়ঙ্কর, গর্তে বাইকের চাকা পড়তেই...’, দেবাহুতিকে চোখের সামনে শেষ হয়ে যেতে দেখলেন টুম্পা
    এই সময় | ২২ জুলাই ২০২৬
  • বাইক চালিয়ে অনেক দূরে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল দেবাহুতির। কিন্তু খারাপ রাস্তাই হয়তো তাঁর সেই স্বপ্ন সত্যি হতে দিল না। অন্তত দেবাহুতি ঘনিষ্ঠদের এমনটাই মত। খড়্গপুরের কাছে ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় কলকাতার ঢাকুরিয়ার দেবাহুতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবর শুনে এই প্রশ্নই করছেন তাঁর বন্ধু, স্বজনরা। দেবাহুতির এ ভাবে চলে যাওয়া কিছুতেই মানতে পারছেন না তাঁর প্রিয়জনেরা। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, এই মৃত্যুর দায় কার? এ দুর্ঘটনা কি নিছক দুর্ঘটনা? নাকি অন্যের গাফিলতির মূল্য জীবন দিয়ে চোকাতে হলো বছর ৪৪-এর এই বাইকারকে?

    ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক হলো পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশার সংযোগকারী রাস্তা। এই রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ। পিচের রাস্তা। পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্ত হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। রবিবার সেই জাতীয় সড়ক ধরে কলকাতায় ফিরছিলেন দেবাহুতি। ৯ জনের টিম ছিল তাঁদের। সেই টিমে ছিলেন দেবাহুতির ছেলেও। তবে তিনি ছিলেন অন্য বাইকে। দেবাহুতির বাইকে থাকা টুম্পা পাল জানান খড়্গপুরের কাছে বালিহাটি এলাকায় রবিবার ঠিক কী ঘটেছিল।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিয়োয় টুম্পা পাল বলেন, ‘আমাদের যে অ্যাক্সিডেন্ট হলো, কেউ কিন্তু ধাক্কা দেয়নি। আমরা বাজে রাস্তার গর্তে পড়ে গিয়েছিলাম। ওডিশার হয়ে এলাম, সেখানে কিন্তু রাস্তা ঠিক হচ্ছে। লোকজন গোল করে বসে গাড্ডা ঠিক করছেন। আমরা পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতেই ব্যারিকেড শুরু। রাস্তা জুড়ে শুধুই গাড্ডা-গাড্ডা-গাড্ডা!’

    টুম্পার অভিযোগ, সেই গর্তই প্রাণ কাড়ল দেবাহুতির। সে দিন একটি গর্তেই পড়ে দেবাহুতির বাইকের চাকা। সে সময়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন টুম্পা। দেবাহুতির বাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে থাকা ডিভাইডারে ধাক্কা মারে।

    তার পরেই সব শেষ! টুম্পার প্রশ্ন, 'এ গুলোয় কি কারও কিছু যায় আসে? এ দোষ সরকারের। সরকার নিজেদের আখের গুছিয়েছে। রাস্তার নাম করে টাকা নিয়েছে। ওরা আখের গোছায় আর সাধারণ মানুষের প্রাণ যায়। একটা হাইওয়েতে ভাঙা রাস্তা, তাতে কিছু যায় আসে না। আমাদের কি নেতা খুঁজে ডিম ছোড়া ছাড়া আর কাজ থাকবে না? এই যে মেয়েটা চলে গেল। ওর ছেলে কলেজে ভর্তি হবে। বাড়িতে বাবা-মা অসুস্থ। কে নেবে দায়? শুধুমাত্র রাস্তা খারাপ বলে আমাদের অ্যাক্সিডেন্ট হলো। এর কৈফিয়ত আমরা চাই।’

    জেলা পুলিশের এক কর্তা মানছেন, ‘রাস্তাটার অবস্থা খুবই খারাপ। ওখানেই একটি গর্তে বাইকটি পড়ে গিয়ে চালক ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গিয়ে বেশ কিছুটা ছিটকে যান। সেখানে রাস্তার পাশে থাকা ব্যারিয়ার গিয়ে তিনি ধাক্কা খান। খুব সম্ভবত বুকে ও মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।’ যদিও এ ব্যাপারে এখনও এনএইচ কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

  • Link to this news (এই সময়)