• ঠাকুমার মৃতদেহ জ্বলন্ত চুল্লিতে ঢোকাতেই ঝাঁপ নাতির, তার পরে যা হলো…
    এই সময় | ২২ জুলাই ২০২৬
  • বৈদ্যুতিক চুল্লির মধ্যে ধীরে ধীরে ঢোকানো হচ্ছে এক বৃদ্ধার মৃতদেহ। আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নিচ্ছে ট্রে-টিকে। ঠিক সেই মুহূর্তে ঠাকুমার নিথর দেহের উপরে কাঁদতে কাঁদতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন নাতি ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস। চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখে হইহই করে ওঠেন সবাই। সোমবার রাতে নদিয়ার নবদ্বীপ শ্মশানের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শেষ মুহূর্তে ইন্দ্রজিৎকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও গুরুতর জখম হয়েছেন তিনি।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্মশানকর্মীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, গেদে সীমান্ত এলাকায় বৃদ্ধার বাড়ি। দীর্ঘ অসুস্থতায় মৃত্যু হয় তাঁর। শেষকৃত্যের জন্য নবদ্বীপ শ্মশানে নিয়ে আসা হয়েছিল বৃদ্ধাকে। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ছিলেন ইন্দ্রজিৎও। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তিনি একটু মনমরা ছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেই রকম কিছু মনে হয়নি। কিন্তু মৃতদেহ বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ঢোকানোর সময়েই আচমকা ট্রলির উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

    ট্রলি তখন চুল্লির মধ্যে প্রায় ঢুকে গিয়েছে। তখনই ঠাকুমার নিথর দেহের উপরে ইন্দ্রজিৎকে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখে চমকে ওঠেন তাঁর আত্মীয়স্বজন-প্রতিবেশীরা। আতঙ্কে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেন তাঁরা। প্রাণপণ চেষ্টা করে চুল্লির মুখ থেকে টেনে বের করেন ইন্দ্রজিৎকে। তবে ততক্ষণে আগুনের তাপে তাঁর চোখ, মুখ এবং শরীরের একাধিক অংশ ঝলসে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

    কিন্তু কেন এমন করলেন তিনি? সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, ঘটনার সময়ে ইন্দ্রজিৎ মত্ত অবস্থায় ছিলেন। অন্য দিকে, তিনি বরাবরই একটু আবেগপ্রবণ বলে দাবি করেছেন ইন্দ্রজিতের বন্ধুবান্ধবরা। সেই কারণেই হয়তো প্রিয়জনকে শেষ বিদায়ের মুহূর্তে বাস্তবের আর আবেগের সীমারেখা মুছে গিয়েছিল। তবে শ্মশানকর্মীদের কেউ কেউ বললেন, ‘খুব জোর বেঁচে গিয়েছেন। না হলে সহমরণ হয়ে যেত।’

    ১. ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে?

    নদিয়ার নবদ্বীপ শ্মশানে।

    ২. ঘটনাটি কবে ঘটেছে?

    সোমবার রাতে।

    ৩. কী ঘটেছিল?

    এক বৃদ্ধার মৃতদেহ বৈদ্যুতিক চুল্লিতে প্রবেশ করানোর সময় তাঁর নাতি ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস মৃতদেহের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।

    ৪. ইন্দ্রজিৎকে কীভাবে উদ্ধার করা হয়?

    আত্মীয়স্বজন ও শ্মশানকর্মীরা দ্রুত তাঁকে চুল্লির মুখ থেকে টেনে বের করেন।

    ৫. তাঁর কী ধরনের আঘাত লেগেছে?

    আগুনের তাপে তাঁর চোখ, মুখ এবং শরীরের একাধিক অংশ ঝলসে গিয়েছে।

    ৬. বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা কোথায় চলছে?

    নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে।

    ৭. কেন তিনি এমন করেছিলেন?

    এর নির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, তিনি মত্ত অবস্থায় ছিলেন। আবার বন্ধুদের মতে, প্রিয় ঠাকুমার মৃত্যুতে চরম আবেগের বশেই তিনি এমন করেন।

    ৮. বৃদ্ধার বাড়ি কোথায় ছিল?

    স্থানীয় সূত্রের দাবি, নদিয়ার গেদে সীমান্ত এলাকায়।

    ৯. শ্মশানকর্মীদের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

    তাঁদের বক্তব্য, অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে। উদ্ধার না করা গেলে প্রাণহানিও ঘটতে পারত।

  • Link to this news (এই সময়)