বারুইপুরে অশান্তির ঘটনার উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে ধৃত সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে ফের তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠাল আদালত। টানা আট দিনের পুলিশ হেফাজত শেষে মঙ্গলবার তাঁকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছিল। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে বিচারক তাঁকে আরও তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
বারুইপুরে নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পরে রাস্তা অবরোধ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, রেল লাইন অবরোধ করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবরোধ তুলতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ কর্মী আহত হন। নাবালিকা হত্যার ঘটনায় সন্দেহের বশে ইন্দ্রজিৎ দাস নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগেও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। এই হিংসা ও অশান্তিতে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগেই গত ১২ জুলাই লাহেক আলিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরের দিন অর্থাৎ ১৩ জুলাই তাঁকে আদালতে তোলা হয়। তখন বিচারক লাহেককে আট দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, হেফাজতে থাকাকালীন অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে তদন্ত চালানো হয়। কিন্তু তাঁকে আরও জেরা করা প্রয়োজন বলে এ দিন আদালতে দাবি করে পুলিশ। সেই কারণেই আরও ছয় দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন করেন সরকারি আইনজীবী বিভাস মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।’
পুলিশের আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন অভিযুক্তের আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, টানা আট দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার পরও তদন্তে কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। গোটা ঘটনাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি তাঁর। একই সঙ্গে তাঁর মক্কেলকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জেহাদি’ বলে প্রচার করা হচ্ছে বলেও আদালতে অভিযোগ করেন তিনি।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর লাহেককে ছয় দিনের পরিবর্তে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। এ দিন আদালত থেকে বেরিয়ে লাহেক দাবি করেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাঁর কথায়, ‘এ ভাবে বামপন্থীদের আটকানো যাবে না।’
১. লাহেক আলিকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল?
বারুইপুরে নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর হওয়া বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অশান্তিতে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২. আদালত কী নির্দেশ দিয়েছে?
বারুইপুর মহকুমা আদালত লাহেক আলিকে আরও তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
৩. পুলিশ কেন ফের হেফাজত চেয়েছিল?
পুলিশের দাবি, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। অভিযুক্তকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং তদন্তের স্বার্থে ছয় দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হয়েছিল।
৪. লাহেক আলির আইনজীবীর বক্তব্য কী?
তাঁর দাবি, আট দিনের হেফাজতের পরও তদন্তে বিশেষ অগ্রগতি হয়নি। মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
৫. আদালত থেকে বেরিয়ে লাহেক আলি কী বলেন?
লাহেক আলির দাবি, তাঁকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘এ ভাবে বামপন্থীদের আটকানো যাবে না।’