• অভিষেককে ‘খুনি’, ‘অপরাধী’ বলার অভিযোগ, ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিস মদনকে
    এই সময় | ২২ জুলাই ২০২৬
  • বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েই ফেসবুক লাইভে এসেছিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। অভিযোগ, ১৯ জুলাইয়ের সেই লাইভ থেকে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগেছিলেন তিনি। এ বার সেই জল গড়াল আইনি নোটিসে। মঙ্গলবার আইনজীবী মারফত ইমেল ও স্পিড পোস্টের মাধ্যমে মদনকে ১০ কোটি টাকার মানহানির নোটিস পাঠালেন অভিষেক।

    নোটিসে বলা হয়েছে, নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে ৭ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের একটি লাইভ করেন মদন। সেই লাইভের ৬ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের মাথায় তিনি অভিষেককে ‘ক্রিমিনাল’ এবং ‘খুনি’ আখ্যা দেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, নোটিসে দাবি করা হয়েছে, অভিষেকের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে চুক্তিভিত্তিক খুন বা ‘সুপারি’ দিয়ে মানুষ হত্যা করানোর মতো অভিযোগও লাইভে করেছিলেন তিনি।

    নোটিসে লেখা হয়েছে, ‘এই ধরনের অভিযোগে অভিষেকের সুনাম নষ্ট হয়েছে।’ প্রতিটি অভিযোগই সম্পূর্ণ মিথ্যা, মনগড়া, বিদ্বেষপ্রসূত বলেও দাবি করা হয়েছে নোটিসে। সেখানে আরও দাবি করা হয়েছে, ‘অভিষেক ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের টানা তিন বারের নির্বাচিত সাংসদ। জনমানসে তাঁর একটা ভাবমূর্তি রয়েছে। সেই ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিত ভাবে এই মন্তব্য করা হয়েছে।’

    এর পরেই মদনকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ও ভিডিও বার্তায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে নোটিসে। একই সঙ্গে অভিষেকের মানহানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে চাওয়া হয়েছে ১০ কোটি টাকা। নোটিসে বলা হয়েছে, এই ক্ষতিপূরণের টাকা একটি রেজিস্টার্ড ট্রাস্টে জমা করা হবে। তার পরে খরচ করা হবে তৃণমূলের দলত্যাগী সাংসদ-বিধায়কদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ সংক্রান্ত আইনি লড়াই এবং রাজনৈতিক হিংসার শিকার নেতা-কর্মীদের আইনি ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কাজে।

    ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মিললে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে নোটিসে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যথাযথ জবাব না দিলে কামারহাটির বিধায়ক এবং তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি—উভয় ধরনের আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

    ১. কেন মদন মিত্রকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে?

    ১৯ জুলাইয়ের ফেসবুক লাইভে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে মানহানিকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করার অভিযোগে।

    ২. কী অভিযোগ রয়েছে মদন মিত্রের বিরুদ্ধে?

    নোটিস অনুযায়ী, তিনি অভিষেককে ‘ক্রিমিনাল’, ‘খুনি’ বলে উল্লেখ করেন এবং ‘সুপারি’ দিয়ে খুন করানোর অভিযোগ তোলেন।

    ৩. নোটিসে কী দাবি করা হয়েছে?

    ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ও ভিডিও বার্তায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।

    ৪. ১০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ কী কাজে ব্যবহার করা হবে?

    নোটিসে বলা হয়েছে, অর্থ একটি নিবন্ধিত ট্রাস্টে জমা রাখা হবে। সেই ট্রাস্টের মাধ্যমে দলত্যাগ সংক্রান্ত আইনি লড়াই এবং রাজনৈতিক হিংসার শিকার নেতা-কর্মীদের আইনি ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করা হবে।

    ৫. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব না দিলে কী হতে পারে?

    নোটিসে জানানো হয়েছে, সন্তোষজনক জবাব না পেলে মদন মিত্র এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • Link to this news (এই সময়)