আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরকীয়াই কি কাল হল বিজেপি কর্মীর? প্রতিবেশী মহিলা সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে নৃশংসভাবে খুন হতে হল নওদা বিজেপি কর্মী গোপীনাথ হালদারকে। তাঁর খুনের নেপথ্যে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিবেশী মহিলা সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানাজানি হতেই খুন করা হয় তাঁকে।
মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের নওদা থানা এলাকায় বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করে মঙ্গলবার তাঁদের বহরমপুর আদালতে পেশ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তিদের নাম জোৎস্না হালদার, অমৃত হালদার, অনন্ত হালদার এবং প্রিয়াঙ্কা হালদার। ধৃত চারজনই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিএনএস-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে।
প্রসঙ্গত, প্রায় ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রাখার পর সোমবার নওদা থানা এলাকার জলঙ্গী নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হয় বিজেপি কর্মী গোপীনাথ হালদারের মৃতদেহ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রবিবার বিকেল চারটে নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন গোপীনাথ হালদার। তারপর থেকে তাঁর আর খোঁজ মিলছিল না। রবিবার রাতে গোপীনাথবাবুর পরিবারের তরফ থেকে নওদা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছিল।
প্রাথমিক কিছু সূত্রের ভিত্তিতে সোমবার সকাল থেকে নওদার গোঘাটা-হালদারপাড়া গ্রামে জলঙ্গী নদীর পাড় বরাবর তল্লাশি শুরু করে স্থানীয় লোকজন এবং নওদা থানার পুলিশ। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিল গোপীনাথবাবুর মৃতদেহ।
এলাকার বিজেপি কার্যকর্তা গোপীনাথবাবুর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনার পর নওদায় পৌঁছে যান বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন। এলাকায় দাঁড়িয়ে তিনি খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শাস্তির দাবি করেছিলেন। তবে এই খুনের ঘটনাটিকে তিনি রাজনৈতিক রং লাগাননি।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, তদন্ত শুরু করার পরই তাঁরা গোপীনাথের পরকীয়া সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। এক তদন্তকারী আধিকারিক জানান, গোপীনাথের সঙ্গে তাঁরই প্রতিবেশী জোৎস্না হালদারের একটি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল।
সম্প্রতি তাঁর সঙ্গেই জোৎস্নাকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলেছিলেন তাঁর পরিবারের এক সদস্য। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে জোৎস্না বাড়িতে অশান্তি শুরু হয়ে যায়। সূত্রের খবর, এরপরই গোপীনাথকে খুনের পরিকল্পনা করেন জোৎস্না এবং তাঁর দুই ছেলে এবং এক ছেলের বউ।
সেই পরিকল্পনা অংশ হিসেবে রবিবার সন্ধ্যা নাগাদ একটি জায়গায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল গোপীনাথকে। এরপর জোৎস্না হালদার, তাঁর দুই ছেলে এবং এক ছেলের বউ গোপীনাথকে জোর করে চেপে ধরে তাঁর হাত, পা দড়ি দিয়ে বাঁধেন। এরপর ওই বিজেপি কার্যকর্তার অন্ডকোষে চাপ দিয়ে খুন করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে। রাত বাড়লে অভিযুক্ত চারজন গোপীনাথের দেহ জলঙ্গী নদীতে ফেলে দেন।