বিভাস ভট্টাচার্য: প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে ভিড়। জানাচ্ছেন রাজ্য কংগ্রেস নেতারা। মঙ্গলবার শহিদ মিনারের পাদদেশে ২১ জুলাই 'শহিদ তর্পণ' অনুষ্ঠানে। তাঁদের অভিযোগ, জায়গায় জায়গায় বিজেপি তাঁদের কর্মীদের মারধর করেছে। গাড়ি ভাঙচুর করেছে। যে কারণে একদিকে যেমন দলের ১১ জন কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে পাশাপাশি অনেকেই বাধার মুখে পড়ে সভাস্থলে আসতে পারেননি। কিন্তু সামনে উপস্থিত কর্মীদের উৎসাহ দেখে তাঁরা আশাবাদী, কংগ্রেস এরাজ্যে আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। সময় যত গড়াবে আগামীদিনে ভিড়ের পরিমানও বাড়বে। ফলে এদিনের মঞ্চ থেকেই রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়ে দেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে ব্রিগেডে রাহুল গান্ধীকে নিয়ে সভা করবে কংগ্রেস। এর পাশাপাশি শুভঙ্কর জানিয়েছেন, আগস্ট মাসে গোটা রাজ্য জুড়ে পথসভা করা ছাড়াও জানুয়ারি মাসেও রাজ্যে কংগ্রেস বেশ কয়েকটি আগাম কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
১৯৯৩ সালে যখন ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মী পুলিশের গুলিতে মারা যান তখন রাজ্য যুব কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন মমতা ব্যানার্জি। সেই ঘটনার স্মরণে এদিন সভাস্থলে যে ছবির 'কোলাজ' করা হয়েছিল সেখানে মমতার সেইদিনের ছবিও ছিল। আবার কংগ্রেসের অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পর মমতা কংগ্রেসকে ভেঙে টুকরো টুকরো করার চেষ্টা করেছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কংগ্রেসের সভায় মমতার ছবি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্য কংগ্রেসের 'পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স কমিটি'র সদস্য রণজিৎ মুখার্জি বলেন, "কংগ্রেস কখনও ইতিহাস বিকৃত করে না। যুব কংগ্রেসের ব্যানারে এই আন্দোলন হয়েছিল এবং মমতা ব্যানার্জি তখন রাজ্য যুব কংগ্রেসের সভাপতি। সে কারণেই সেদিনের ঘটনা স্মরণে তাঁর ছবি আছে। এর সঙ্গে যেন ১৯৯৮ সালের পরের ঘটনাগুলো এক করে না দেওয়া হয়।"
রাজ্য থেকে দিল্লি, বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে এদিন হাত শিবিরের সমস্ত নেতাই বলেছেন এই 'শহিদ'দের নিয়ে রাজনীতি হয়েছে। তৃণমূলের নাম না করে কংগ্রেস নেত্রী দীপা দাশমুন্সী বলেন, "অতীতে শহিদ দিবস ছিল ক্ষমতা প্রকাশের একটা মঞ্চ।" প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, "আমরা সার্কাস করতে আসিনি। শহিদ তর্পণ করতে এসেছি। বাকি দুই জায়গায় সার্কাস চলছে।" উল্লেখ্য, এদিন মমতার নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়াও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের আরেকটি দলও ২১ জুলাই স্মরণে সভার আয়োজন করেছিল। ঋতব্রত শিবিরের দিকে আঙুল তুলে অধীর বলেন, "এঁরা কতটা কাপুরুষ যে মমতা হেরে যেতেই সব ছেড়ে চলে গেল।" অধীরের কথায়, "বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আপনারা কংগ্রেসকে নিয়ে আসুন। গোটা দেশেই পরিবর্তনের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। বাংলাতেও কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন হবে।" সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ী এদিন কংগ্রেস নেতৃত্বকে অনুরোধ করেন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া না করতে। এদিনের অনুষ্ঠানে ১৯৯৩ সালে মৃত এক কংগ্রেস কর্মীর পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আসতে না পারলেও আরেক মৃত কংগ্রেস কর্মী মুরারি চক্রবর্তীর দাদা কৃষ্ণ চক্রবর্তী রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি চিঠি লেখেন। ছিলেন সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেস সভাপতি উদয়ভানু চিব ও বেশ কয়েকজন সর্ব ভারতীয় নেতা ও নেত্রী। এর পাশাপাশি এদিন কংগ্রেসের নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী বলেন, ২১ জুলাই নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করবে কংগ্রেস।