'ককরোচ'-দের সমর্থনের বার্তা মমতার, দিল্লির বিক্ষোভে যোগ দিতে যাবেন? করলেন ঘোষণা
আজ তক | ২২ জুলাই ২০২৬
ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভকে সমর্থন করছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ সভা থেকে তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন। সেইসঙ্গে এও বলেন, প্রয়োজন হলে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে তিনি যাবেন।
আরও বলেন, "প্রয়োজন হলে আমি ব্যক্তিগতভাবে সিজেপি-র বিক্ষোভে যোগ দেব। আমরা ইতিমধ্যেই তাদের সমর্থন করেছি। ভবিষ্যতেও তা করে যাব।"
দিল্লিতে প্রধান বিচারপতির 'চলো সংসদ' মিছিল চলাকালীন যে হিংসা ঘটে, তার পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ বিভিন্ন স্তরে তদন্ত জোরদার করেছে। পুলিশ শুধু হিংসায় জড়িতদেরই শনাক্ত করছে না, বরং এর পিছনে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র, হিংসার পূর্বপরিকল্পনা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে কথিতভাবে যুক্ত সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলোর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত করছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক হওয়া সবাই ছাত্র নয়। এমন বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে যাদের পড়ুয়া হিসেবে শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ এখন এই ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং হিংসা পূর্বপরিকল্পিত ছিল কিনা তা তদন্ত করছে।
মঙ্গলবার ছাত্রদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ, ওয়াটার ক্যাননের প্রতিবাদে কংগ্রেস নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিল করে। এই বিক্ষোভে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভঢরা, দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও পবন খেরা, পঞ্জাব কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, দীপেন্দর হুডা এবং কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভ চলাকালীন রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ জানান, তিনি জবাবদিহির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের দিকে যাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার একদিন আগেই পড়ুয়াদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। কিন্তু এর দায় নিতে বা সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে নারাজ।
সোমবার NEET-UG ২০২৬ প্রশ্নফাঁস এবং বিভিন্ন জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত Cockroach Janta Party (CJP) কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার হাতে একটি স্মারকলিপি জমা দিল। সেখানে সংগঠনটি ৩টি মূল দাবি জানিয়েছে। আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের নিঃশর্ত মুক্তি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ এবং NEET প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যার অভিযোগ থাকা পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ।
গত ৬ জুন থেকে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলন শুরু করে CJP। পরে সেই আন্দোলন দেশের একাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়ে। সংগঠনের অভিযোগ, NEET ২০২৬ প্রশ্নফাঁস, CBSE দ্বাদশ শ্রেণির পোর্টাল বিভ্রাট এবং CUET পরীক্ষায় বিলম্ব-সহ একাধিক ঘটনায় শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুতর ব্যর্থতা সামনে এসেছে এবং তার দায় শিক্ষা মন্ত্রককেই নিতে হবে।
সোমবারের প্রতিবাদ মিছিলে CJP দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও তুলেছে। সংগঠনের দাবি, এই আন্দোলন দেশের ছাত্রছাত্রী এবং যুবসমাজের উদ্বেগ ও প্রত্যাশার প্রতিফলন।