'আমার পকেটের ৪২ লাখ টাকায় থানা তৈরি হয়েছে, মমতার থেকে টাকা ফেরত চাই', আক্রমণ হুমায়ুনের
News18 বাংলা | ২২ জুলাই ২০২৬
২১ জুলাই নিয়ে এবার আসরে হুমায়ুন কবীর। সোমবার বিধানসভায় ২১ জুলাই নিয়ে গঠিত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে আক্রমণ হুমায়ুনের। সেই সঙ্গে মমতার থেকে শক্তিপুর থানা তৈরির টাকা ফেরত চান তিনি।
তিনি বলেন, “গতকাল বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ২১ জুলাই নিয়ে গঠিত কমিশনের যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন তাতে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়েছে যে বাংলায় ১৫ বছরের মুখ্যমন্ত্রী তথা ১৯৯৩ সালের আন্দোলনের নেত্রী তৎকালীন যুব কংগ্রেসের নেত্রীর আসল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়া। মমতা শহীদদের মনে প্রাণে কোনও মর্যাদা দিতে চাননি। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তিনিও একসময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর খুব কাছের মানুষ ছিলেন। কিন্তু সেই সময় তাঁকেও এই বিষয়টি নিয়ে কোনও অ্যাপ্রোচ করতে দেখিনি। রাজনৈতিক ব্যাক্তিরা তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে শহীদের নিয়ে রাজনীতি করেছে”।
সেই সঙ্গে কংগ্রেসকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি হুমায়ুন। “কংগ্রেস চর্চায় থাকার জন্য শহীদ দিবস পালন করছে। ২০১১ সালে যখন পালা বদল হয় তখন কংগ্রেসের ছয়জন মন্ত্রী ছিলেন। তখন কেন এই শহীদদের মর্যাদা দেওয়ার কথা বলেননি। বর্তমানে প্রদেশ কংগ্রেসের যিনি সভাপতি মাত্র ২৭০০ ভোট পাওয়া ভুঁইফোড় নেতা, তিনি কেন ৩৩ বছর এই শহীদদের মর্যাদা দেওয়ার কথা বলেননি”।
পাশাপাশি নিজের টাকায় শক্তিপুরে থানা বানিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন হুমায়ুন। ২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর অনুমোদিত হয় শক্তিপুর থানার। ২০১৩ সালে ৫ জানুয়ারি তৈরি হয়ে যায়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ওই থানার উদ্বোধন করেন হুমায়ূন কবীর। এই থানা তৈরি করার জন্য নিজের পকেট থেকে ৪২ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন সেই সময় রাজ্যের মন্ত্রী হুমায়ুন কবীর (কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিয়ে)। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন থানা ভবনের বাকি কাজের টাকা দিয়ে দিতে, পরে সরকারের থেকে দিয়ে দেওয়া হবে। সেই টাকা এখনও পাননি। সেই টাকা দাবি হুমায়ুনের, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর থেকে চাইব সেই টাকা”।
সেই সঙ্গে বিজেপি যে ক্ষমতায় আসবে তা নাকি আগে থেকেই জানতেন হুমায়ুন, “শুভেন্দু অধিকারী আসবে ক্ষমতায় এটা আমার জানা ছিল। বিজেপিতে যতই দিলীপ ঘোষ, শমীক ভট্টাচার্য বাঘ ভাল্লুক যেই থাক, বিজেপি ক্ষমতায় এলে শুভেন্দু অধিকারীই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। আর তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আমার একটা কথার জন্য (স্যাটা ভাঙা) আমাকে পাঁচ ঘন্টা থানায় বসিয়ে রেখে জল পর্যন্ত খেতে দেওয়া হয়নি। এটা খুবই অমানবিক।”