কল্লোলিনী তিলোত্তমার বুকে ঘটে গেল নৃশংস ঘটনা। কলকাতা নিউটাউনের পাথরঘাটায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। জমি নিয়ে লড়াইকে কেন্দ্র করে ধারালো অস্ত্রের আক্রমণে প্রাণ হারালো বাবা ও ছেলে। ঘটনাস্থলে গিয়েছে বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম মোজাফফর মিস্ত্রি ওরফে মনা। তারঁ ছেলে বাপি। পাথরঘাটাতে মিস্ত্রি পরিবারের একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। সোমবারে সেই জমিতে কয়েকজন নির্মাণ শুরু করলে মনা ও তার পরিবারের সদস্যরা সেখানে বাধা দিতে যান। বাধা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অপর পক্ষ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ শুরু করে।
পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়। দুষ্কৃতীরা রামদা দিয়ে মনা, তার স্ত্রী ও ছেলেকে রীতিমত কোপায়। তিনজনে গুরুতর আহত হয়ে লুটিয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকেরা বাবা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন মহিলা।
এমন বিভৎস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়াতেই সমগ্র পাথরঘাটা এলাকায় তীব্র আতঙ্কের পাশাপাশি ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকা জুড়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের প্রাথমিক অনুমান, জমি সংক্রান্ত শত্রুতার জেরেই এই বর্বরোচিত হামলা। ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল অভিযুক্তদের ধরে আনতে ও সত্য উন্মোচন করতে একাধিক সন্দেহভাজনকে আটক করে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
গতকালই নিউটাউনে হাড়হিম করা ঘটনা ঘটেছিল। লিভ-ইন পার্টনারের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃতের নাম তৃষা সাহা (২৫)। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর লিভ-ইন পার্টনার সৌভিক রায়কে পুলিশ বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিউটাউন থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, নিউটাউন চন্ডিবেড়িয়ার একটি ফ্ল্যাটে তৃষা ও সৌভিক একসঙ্গে সহবাস করছিলেন। বিগত চার মাস ধরে তাঁরা সেই ফ্ল্যাটে একসঙ্গে থাকছিলেন। সোমবার ওই ফ্ল্যাটের বন্ধ ঘর থেকে পুলিশ তৃষার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। অন্যদিকে, সৌভিককে ওই ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তৃষার শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।