আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নয়, সিজেপির পর এবার দিল্লিমুখী হাজার হাজার কৃষক
প্রতিদিন | ২২ জুলাই ২০২৬
ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজধানী দিল্লি (Delhi)। এরইমাঝে ২০২৪-এর স্মৃতি ফিরিয়ে এবার দিল্লিমুখী হাজারো কৃষক। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়া এই কৃষকদের আটকাতে কোমর বেঁধে নেমেছে হরিয়ানা সরকার। কোনওভাবে যাতে তাঁরা রাজধানীতে পৌঁছতে না পারেন তার জন্য অতীতের ছকে সিল করে দেওয়া হয়েছে শম্ভু বর্ডার। কংক্রিটের ব্লক, লোহার পেরেক ও বহুস্তরের ব্যারিকেড দিয়ে আন্তঃরাজ্য সীমান্তকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে এই আন্দোলন কৃষকদের।
আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির লক্ষ্যে গত প্রায় একবছর ধরে দীর্ঘ আলোচনার পর সম্প্রতি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করা হয়েছে। তবে এই চুক্তিতে তাঁদের স্বার্থ খুন্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। আমেরিকার সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে একজোট হয়েছে কৃষক সংগঠনগুলি। ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই মহাপঞ্চায়েতে যোগ দিতে পাঞ্জাব, হরিয়ানার কৃষক সংগঠনগুলি একজোট হয়েছে। কিষান মজদুর সংগ্রাম কমিটির (কেএমএসসি) নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের বলেন, কেএমএসসি, কিষান মজদুর মোর্চা (পাঞ্জাব শাখা), আজাদ কিষান মোর্চা এবং বিকেইউ একতা সংগ্রামের সদস্যরা একজোট হয়ে পাঞ্জাব থেকে রওনা দিয়েছেন দিল্লির উদ্দেশে। তবে শম্ভু সীমান্তে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে খানৌরি সীমান্ত। এই দুই অঞ্চলই পাঞ্জাব থেকে হরিয়ানায় প্রবেশের পথ। হরিয়ানার কর্নাল থেকে দিল্লির উদ্দেশে হেঁটে আসা কৃষককে আটকাতে ৪৪নম্বর জাতীয় সড়কের পানিপত টোল প্লাজায় ২ কোম্পানি র্যাফ ও বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
কিষাণ মজদুর মোর্চা-সহ কৃষক সংগঠনগুলির অভিযোগ, বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে আমেরিকা থেকে সস্তা কৃষিপণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে তা দেশের কৃষক, কৃষি শ্রমিক, পশুপালক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। কৃষকদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত ভর্তুকি পাওয়া মার্কিন কৃষিপণ্যে ছেয়ে যেতে পারে বাজার। যা দেশীয় পণ্যের দাম কমিয়ে দেবে, যা গ্রামীণ আয়কে বিরাট ধাক্কা দেবে। যেহেতু ভারতের কৃষকরা মার্কিন কৃষকদের তুলনায় অত্যন্ত কম সরকারি সাহায্য পান তাই এই অসম প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। শুধু কৃষক নয়, শ্রমিক সংগঠনগুলিও প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে উদ্বিগ্ন। তারাও প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করতে এবং কৃষক ও সাধারণ নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি বর্তমানে উত্তাল রাজধানী। পুলিশ অনুমতি না দিলেও গত সোমবার পূর্বঘোষিত সংসদ অভিযানে নেমেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। এই কর্মসূচি আটকাতে পড়ুয়াদের উপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করেছে দিল্লি পুলিশ। পড়ুয়াদের উপর দিল্লি পুলিশের সেই নির্মম মারের ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। পড়ুয়াদের আন্দোলনের মাঝেই এবার প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির প্রতিবাদে রাস্তায় কৃষকরা।