• ধরনার জেরে আটক, কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ ছাড়ল রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে, মুক্ত বাকি কংগ্রেস নেতারাও
    প্রতিদিন | ২২ জুলাই ২০২৬
  • মঙ্গলবার সকালে ‘আরশোলা’দের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধরনায় বসেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। গোটা রাত অবস্থান বিক্ষোভ চালানো হবে জানিয়ে ছিলেন তিনি। এরপরই দিল্লি পুলিশ আটক করে কংগ্রেস নেতাকে। বেশ কয়েক ঘণ্টা পর ছত্রসাল স্টেডিয়াম থেকে ছেড়ে দেওয়া হল তাঁকে। একটি গাড়িতে চেপে ফিরে যেতে দেখা গিয়েছে রাহুলকে। অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কাকে আটক করে মন্দির মার্গ থানায় রাখা হয়েছিল। তাকেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সেখানে রাতেই হাজির হন সোনিয়া গান্ধী। তিনিও মন্দির মার্গ থানা থেকে ফিরে গিয়েছেন বলেই সূত্রের খবর।

    এছাড়াও সোমবার পুলিশ-সিজেপি সমর্থকদের খণ্ডযুদ্ধের পর আটক করা আরও ৭০ জন মঙ্গলবার ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি সরকারি নষ্টের অভিযোগ ছয়টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে রাহুল গান্ধী-সহ কংগ্রেসের ধরনার বিষয়টির তীব্র নিন্দা করেছেন বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন। তিনি মন্তব্য করেন, “প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে রাহুল গান্ধীর আচরণ নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক। এটি ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে একটি কালো দিন।” এদিকে বেশি রাতে জন্তর মন্তর চত্বরে পৌঁছেছেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। তিনি সেজেপি-র বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। 

    মঙ্গলবার দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে উপস্থিত হন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। তারপর সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অর্থাৎ ৭, লোক কল্যাণ মার্গের উদ্দেশ্যে শুরু হয় মিছিল। সেখানে যোগ দেন অখিলেশও। এরপরই মোদির বাসভবনের বাইরে আঁটসাঁট করা হয় নিরাপত্তা। মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ। নামানো হয় র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অবিলম্বে ইস্তফা দিতে হবে। তোলেন স্লোগানও। ঘটনাস্থলে যান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। দেখা করেন রাহুলের সঙ্গে। কিন্তু তাঁর আশ্বাসের পরও সারারাত মোদির বাসভবনের বাইরে ধরনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস। 

    বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, ‘ককরোচ’দের নিয়ে আসলে রাহুলের কোনও উদ্বেগ নেই। পুরোটাই তাঁর রাজনৈতিক কৌশল। সেই কারণেই তিনি বারবার তাঁর দাবিদাওয়া বদলাচ্ছেন। এর আগে আমেরিকায় গিয়ে তিনি ভারতের গণতন্ত্রের সমালোচনা করেছিলেন। অভিযোগ করেন, ভারতে গণতন্ত্র চাপের মুখে পড়েছে। সংসদ, বিচারব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি শাসকদল ও আরএসএস-এর নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে। অন্যদিকে, আপ নেতা সোমনাথ ভারতী বলেন, “রাহুল গোটা বিষয়টিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। তিনি আসলে বিজেপির চাপে রয়েছেন। তিনি যদি ছাত্র-যুবদের সমর্থন করতে চান, তাহলে তাঁর যন্তর মন্তরে যাওয়া উচিত।
  • Link to this news (প্রতিদিন)