বৃদ্ধার শবদেহ শ্মশানের বৈদ্যুতিক চুল্লিতে দাহ করার জন্য ঢোকানো হচ্ছিল। প্রিয়জনকে চিরতরে হারানোয় থমথমে পরিবেশ। পরিজনদের কান্নার পাশাপাশি হরিবোল ধ্বনিও উঠছে। সেসময় আচমকাই ওই ট্রলির উপর ঝাঁপিয়ে মৃতদেহের সঙ্গে জলন্ত চুল্লির ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে এক যুবক! চুল্লির গনগনে আঁচে সঙ্গে সঙ্গে ঝলসে গেল যুবকের মুখ ও শরীরের বেশ কিছু অংশ। উপস্থিত লোকজন কোনওক্রমে ওই যুবককে চুল্লির ভিতর থেকে টেনে বার করেন! হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার নবদ্বীপ স্টেশনে। ওই যুবক সম্পর্কে মৃতার নাতি বলে জানা গিয়েছে। ঠাকুমার মৃত্যুশোক মানতে না পেরেই কি এই ভয়াবহ পদক্ষেপ?
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার গভীর রাতে। স্থানীয় ও শ্মশান সূত্রে জানা গিয়েছে, গেদে সীমান্ত এলাকা থেকে ওই বৃদ্ধার দেহ দাহ করার জন্য নবদ্বীপ মহাশ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মৃতার পরিজনরাও শ্মশানে শেষযাত্রায় গিয়েছিলেন। শ্মশানে কাগজকলমে কাজ শেষ হলেই মৃতদেহ সৎকারের ব্যবস্থা শুরু হয়। চুল্লির সামনে মৃতদেহ রাখা ছিল। শেষবার দেখার জন্য পরিবার-পরিজনের লোকজন দূরে দাঁড়িয়েছিলেন। চুল্লির দরজা খুলতেই ঘটে গেল মারাত্মক ঘটনা।
দেহ চুল্লির ভিতরে ঢোকানোর সময় ঠাকুমার মৃতদেহের উপর ঝাঁপ দিয়েছিলেন সম্পর্কে নাতি বছর ৩০ বয়সের যুবক ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস। মৃতদেহের ট্রলি ততক্ষণে বেশ কিছুটা চুল্লির মধ্যে ঢুকে গিয়েছিল। ওই গনগনে আঁচে ঝলসে গেল যুবকের শরীরের বেশ কিছুটা অংশ। ঘটনা দেখে উপস্থিত সকলেই হতবাক। কোনওরকমে ওই যুবককে উদ্ধার করেন লোকজন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই যুবকের মুখ ও শরীরের বিভিন্ন ঝলসে গিয়েছে। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। কিন্তু কী কারণে এই ঘটনা? প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, ঘটনার সময় যুবকটি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। যদিও পরিবারের লোকজন সেই কথা মানতে চায়নি। পরিবারের দাবি, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।