• নেই ট্রমা কেয়ার, সময়ের সঙ্গে লড়াই চলে বাঁকুড়া মেডিক্যালে
    প্রতিদিন | ২২ জুলাই ২০২৬
  • বাঁকুড়া: বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের (Bankura Medical College) জরুরি বিভাগের সামনে পরপর অ্যাম্বুল্যান্স এসে থামছে। নির্মাণকাজে উচ্চতা থেকে পড়ে গুরুতর জখম হয়ে এসেছেন মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা আবদুল কাসেম নামে এক শ্রমিক। আবার সড়ক দুর্ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও এক আহত। তিনি পেশায় শিক্ষিকা। ৯ নম্বর রাজ্য সড়ক ধরে বাঁকুড়ার দিকে আসার পথে পথদুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় স্ট্রেচারে করে তাঁদের জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতেই শুরু হয় চিকিৎসকদের ব্যস্ততা। কিন্তু সেই ব্যস্ততার মাঝেই সামনে আসে জেলার এই সরকারি মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের অন্যতম বড় পরিকাঠামোগত সমস্যা, এখানে এখনও পূর্ণাঙ্গ ট্রমা কেয়ার সেন্টার নেই।

    অনুমোদিত ১,৪৪১ শয্যার বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতাল শুধু জেলার নয়, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ডের একাংশের মানুষেরও ভরসার কেন্দ্র। হাসপাতালে দুজন নিউরোসার্জন থাকলেও মাথায় গুরুতর আঘাত বা পলিট্রমা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ডেডিকেটেড ট্রমা অপারেশন থিয়েটার, নিউরো-আইসিইউ, পূর্ণাঙ্গ ট্রমা টিম এবং ট্রমা পরিকাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি। রোগীর পরিজনদের একাংশের অভিযোগ, গুরুতর দুর্ঘটনার রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক সময় একাধিক পরিষেবা পেতে বিলম্ব হয়। এই অভিযোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এ সমন্বিত ট্রমা চিকিৎসা জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকার কারণে চিকিৎসা শুরু করতেই পারেন না। জানা যাচ্ছে, জেলার প্রধান রেফারাল হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার দাবি উঠছে।

    পরিকাঠামোর সংকট আরও স্পষ্ট হয়েছে হাসপাতালের পুরনো মূল ভবনকে ঘিরে। ভবনটি জীর্ণ হয়ে পড়ায় পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন বিভাগের ওয়ার্ড ইতিমধ্যেই সুপার স্পেশালিটি ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য ভবনে প্রায় ১২০ কোটি টাকার ডিপিআর জমা পড়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে আধুনিক এমার্জেন্সি ব্লকও রয়েছে এবং আর্কিটেক্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দুর্ঘটনার পর প্রথম ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এ দ্রুত অস্ত্রোপচার, নিবিড় পরিচর্যা এবং বহুবিভাগীয় সমন্বিত চিকিৎসা জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে ডেডিকেটেড ট্রমা কেয়ার ইউনিট, নিউরো-আইসিইউ, ২৪ ঘণ্টার জরুরি অপারেশন থিয়েটার, পর্যাপ্ত লাইফ সাপোর্ট ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষিত ট্রমা টিম প্রয়োজন।

    মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু বলেন, “পুরনো ভবনের নিরাপত্তার কারণে ওয়ার্ড স্থানান্তর করা হয়েছে। নতুন হাসপাতাল ভবন ও আধুনিক এমার্জেন্সির পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রমা-সহ পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগও ধাপে ধাপে এগোচ্ছে।” (চলবে)
  • Link to this news (প্রতিদিন)