দল বদলে রাজনৈতিক কেরিয়ারে ধাক্কা! এবার ভালোবাসার জায়গায় ফিরবেন প্রতীক উর?
প্রতিদিন | ২২ জুলাই ২০২৬
বামশিবিরের পরিচিত মুখ ছিলেন। একাধিক আন্দোলনে প্রথম সারিতে দেখা গিয়েছিল প্রতীক উর রহমানকে। মাস কয়েক আগে তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের শরিক হতে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। কিন্তু ভোটের পর তৃণমূল ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না প্রতীক উরকেও। স্বাভাবিকভাবেই সকলের মনে প্রশ্ন, এবার কোন পথে হাঁটবেন তিনি? শোনা যাচ্ছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে নাকি রাজনৈতিক সন্ন্য়াসের চিন্তাভাবনাই করছেন তিনি। ফিরবেন নিজের পুরনো পেশায়।
২০০৮ সাল নাগাদ সরাসরি বাম রাজনীতিতে যুক্ত হন প্রতীক উর। অর্থাৎ দলের সুসময় তিনি দেখেছেন, তা বলা যায় না। দুঃসময়েই বামেদের ঝান্ডা হাতে তুলে নিয়েছিলেন। দলের তরফেও সাধ্য মতো তাঁকে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলায় সিপিএমের তরুণ নেতাদের মধ্যে একজন হয়ে উঠেছিলেন। প্রায় সব আন্দোলনেই প্রথম সারিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ঝাঁজালো আক্রমণ করেছেন রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে। উৎখাতের ডাক দিয়েছিলেন। একাধিক ভোটে তাঁকে প্রার্থী করেছে লালপার্টি। জেলা ও রাজ্য কমিটিতেও জায়গা পেয়েছেন। তা সত্ত্বেও গত ফেব্রুয়ারিতে সিপিএমের প্রতি একরাশ উষ্মা প্রকাশ করে সিপিএম ছাড়েন প্রতীক-উর। তারপরই যোগ দেন তৃণমূলে। বলেছিলেন, উন্নয়নের শরিক হতে চান। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ঋতব্রতর যোগের কথাও প্রকাশ্যে আসে। একটা সময় দু’জন একসঙ্গে বাম রাজনীতি করতেন। ফলে ঘনিষ্ঠতা ছিল। পরবর্তীতে ঋতব্রত যোগ দেন তৃণমূলে। জানা যায়, প্রতীক উরের দলবদলের নেপথ্যে ছিলে সেই ‘ঋতদা’ই।
পালাবদলের পর বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণ একেবারে বদলে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে দলের রাশ নেই বললে অত্যুক্তি হবে না। অন্যদিকে প্রবল চাপে অভিষেকও। একে মামলার পাহাড়, তার উপর একের পর এক বাড়ি, কার্যালয় ভাঙার নোটিস পড়েছে। আমতলার যে কার্যালয়ে অভিষেকের হাত থেকে পতাকা নিয়েছিলেন প্রতীক উর, সেখানে বুলডোজার চলেছে। সেখানেও দেখা যায়নি প্রতীক উর। এদিকে আবার প্রতীক-উরের ‘ঋতদা’র দাবি, তাঁরাই আসল তৃণমূল। একদিকে মমতা-অভিষেক, অন্যদিকে ঋতদা, এবার কোন দিকে যাবেন প্রতীক উর, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ছিল সকলের মনে। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, আর রাজনীতি নয়, এবার আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। অর্থাৎ রাজনৈতিক কেরিয়ারে ইতি টানতে চলেছেন প্রতীক উর। উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল নাগাদ প্রতীক উর আইনে স্নাতক হন। পরবর্তীতে অল ইন্ডিয়া বার কাউন্সিলের পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন তিনি।