• মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পদক্ষেপ! এফআইআরের পথে শহিদ বিশ্বনাথ রায়ের পরিবার
    প্রতিদিন | ২২ জুলাই ২০২৬
  • ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানিয়েছিলেন নতুন করে এফআইআর করতে পারবেন শহিদের পরিবাররা। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার ঘোষণা করল ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের ১৩ শহিদের অন্যতম বিশ্বনাথ রায়ের পরিবার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মনীশ গুপ্তের নামে এফআইর করা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

    বিশ্বনাথ রায়ের পরিবার প্রকাশ্যে জানিয়েছিল, কালীঘাট তৃণমূল বা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নতুন তৃণমূল— কোনও পক্ষেরই ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে তাঁরা যোগ দেবেন না। সেই সিদ্ধান্তেই অনড় থেকে এ দিন কোনও রাজনৈতিক মঞ্চে যায়নি পরিবার। নিজেদের উদ্যোগে শহিদ স্মরণ ও তর্পণ করার পরই আইনি লড়াইয়ের নতুন বার্তা দেয় তাঁরা। সকালে বিশ্বনাথ রায়ের বাড়ির সামনে শহিদ বেদিতে মাল্যদান করতে যান তৃণমূল কর্মীরা। অভিযোগ, তাঁদের মাল্যদান করতে বাধা দেন রাজীব রায়।

    এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিতে জুতোর মালা পরিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য-সহ একাধিক ইস্যুতে প্রাক্তন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি। সোমবার বরানগরের নরসিংহ প্রসাদ রোডে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিশ্বনাথ রায়ের ছেলে রাজীব রায় বলেন, “কেউ করুক বা না করুক, আমার পরিবার এফআইআর করবে। আমি এবং আমার মা অভিযোগ দায়ের করব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মনীশ গুপ্তের নাম থাকবে। পুরো তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় না নিয়ে আসা পর্যন্ত আমরা শান্ত থাকব না।”

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সাল থেকেই তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি বয়কট করে আসছে বিশ্বনাথ রায়ের পরিবার। তাঁদের দাবি, শহিদ দিবস রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, অথচ শহিদ পরিবারের বিচার আজও মেলেনি। সেই অবস্থান থেকেই এ বছর রাজনৈতিক মঞ্চ এড়িয়ে আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নেওয়ার ঘোষণা করেছে পরিবার।

    এ দিকে, কাঁকিনাড়ার বাসিন্দা আর এক শহিদ কেশব বৈরাগীর পরিবারও এ দিন কোনও রাজনৈতিক মঞ্চে যায়নি। পরিবারের দাবি, তাঁরা এই বিতর্কে আর জড়াতে চান না। সেই কারণেই ২১ জুলাইয়ের কোনও কর্মসূচিতেও যোগ দেননি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)