তখন বিকেল। সেক্টর ফাইভের অফিসগুলিতে এক এক করে ছুটি হচ্ছে। জমজমাট রাস্তাঘাট। মঙ্গলবার অফিস থেকে বেরিয়ে সবে গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী অঙ্কন সাহা। আচমকাই আরডিবি-র সামনে তাঁকে ঘিরে ফেলেন কয়েক জন যুবক। অভিযোগ, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে একটা সাদা স্করপিওতে তুলে নিয়ে উধাও হয়ে যান তাঁরা। চোখের সামনে সিনেমার মতো এমন ঘটনা দেখে থতমত খেয়ে যান সবাই। পরক্ষণেই থানা-পুলিশ। অবশ্য কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইটি কর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬ জনকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন বিকেল পাঁচটা- সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ছুটি হয় অঙ্কনের। অফিস থেকে বেরিয়ে নিজের গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময়ে আরডিবি-র সামনে আচমকাই পাঁচ জন যুবক তাঁর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। অঙ্কনকে ফেলে বেধড়ক পেটাতে থাকেন তাঁরা। ততক্ষণে একটা সাদা স্করপিও গাড়ি রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ, সবার চোখের সামনে দিয়েই অঙ্কনকে টেনেহিঁচড়ে তাতে তুলে নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। প্রত্যক্ষদর্শী অসীম বিশ্বাস বলেন, ‘মূহূর্তের মধ্যে পুরো ঘটনাটা ঘটে। সবাই হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল।’ তিনিই থানায় খবর দেন।
ঘটনার তদন্তে নামে ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানার পুলিশ। প্রথমেই ঘটনাস্থল এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। সেখান থেকেই অপহরণে ব্যবহৃত সাদা স্করপিও গাড়ির নম্বর মিলতে বেশি সময় লাগেনি। এর পরেই শুরু হয় চোর-পুলিশ খেলা। গাডি়র নম্বর ধরে মালিককে খুঁজে বের করে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে চালকের মোবাইল নম্বর নিয়ে শুরু হয় ফোন ট্র্যাকিং।
মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ জানতে পারে, সাদা রঙের স্করপিও গাড়িটি ন্যাশনাল হাইওয়ে ১২ ধরে বড়জাগুলিয়ার দিকে যাচ্ছে। ঙ্গে সঙ্গেই হরিণঘাটা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানার পুলিশ। যৌথ অভিযানে বড়জাগুলিয়া এলাকায় গাড়িটিকে আটক করা হয়। ওই গাড়িতেই ছিলেন অঙ্কন। তাঁকেও উদ্ধার করে পুলিশ। গাড়িতে আরও পাঁচ জন যুবক ছিলেন। অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, একজনের কাছ থেকে ৭৮ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন অঙ্কন। সেই টাকা আদায় করতেই তাঁকে মারধর করে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অনুমান। গোটা ঘটনার নেপথ্যে আর কোনও কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা ঘটনার নেপথ্যের কারণ জানার চেষ্টা চলছে।
১. কোথা থেকে অপহরণ করা হয়েছিল?
নিউটাউনের সেক্টর ফাইভ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী অঙ্কন সাহাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।
২. কীভাবে উদ্ধার করা হয় অঙ্কন সাহাকে?
সিসিটিভি ফুটেজ থেকে স্করপিও গাড়ির নম্বর শনাক্ত করে, পরে মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে বড়জাগুলিয়ায় গাড়িটি আটক করে পুলিশ।
৩. এই ঘটনায় কত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?
অপহরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোট ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
৪. অপহরণের সম্ভাব্য কারণ কী?
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ৭৮ লক্ষ টাকা লেনদেনের জেরেই অঙ্কন সাহাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে তদন্ত এখনও চলছে।
৫. কোন থানার পুলিশ তদন্ত করছে?
গোটা ঘটনার তদন্ত করছে ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানার পুলিশ। হরিণঘাটা থানার সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।