তাইল্যান্ড-কলকাতা মাদক চালান! পর্যটক সেজে মারাত্মক ‘মলি’ পাচারে এসে গ্রেপ্তার দুই বিদেশিনী
প্রতিদিন | ২২ জুলাই ২০২৬
ট্যাবলেটের আকারে থাকলে তার নাম হয় এক্সট্যাসি। আর দানার আকারে যখন থাকে, তখন তাকে ডাকা হয় ‘মলি’ বলে। মারাত্মক এই বিদেশি মাদকের পোশাকি নাম এমডিএমএ।
এই বিদেশি মাদক পাচার করে নিয়ে আসা হয়েছিল কলকাতায়। লক্ষ্য ছিল শহরের রেভ পার্টি। কিন্তু পাচার হওয়ার আগেই কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের হাতে গ্রেপ্তার হল তাইল্যান্ডের দুই মহিলা। পর্যটক সেজে কলকাতায় এসে মাদক পাচার করতে গিয়েই এসটিএফের গোয়েন্দাদের হাতে ব্যাঙ্ককের বাসিন্দা ওই দুই মহিলা ধরা পড়েন।
পুলিশ জানিয়েছে, তাইল্যান্ডের ওই দুই মহিলার নাম সুপওয়াদি সুকুলিয়াত ও সুথুওয়ানা কুট। এই বিদেশি মাদক পাচার করতেই তারা পর্যটন ভিসা নিয়ে ব্যাঙ্কক থেকে বিমানে করে কলকাতায় আসে। মঙ্গলবার সকালেই তারা কলকাতা বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর অঞ্চলে আসে। ভবানীপুরের একটি হোটেলে থাকার ছক কষেছিল ওই দুই বিদেশিনী মাদক পাচারকারী। এদিন সকালে সেখানেই হানা দেন গোয়েন্দারা। দুই বিদেশিনীর পোশাক তল্লাশি করার পর দু’জনের কাছ থেকেই উদ্ধার হয় মাদক ‘মলি’। উদ্ধার হওয়া ২০ গ্রাম ওই মাদকের দাম লাখ টাকারও উপর।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই এসটিএফ আধিকারিকদের কাছে খবর আসছিল যে, ব্যাঙ্কক থেকে মাদক পাচার হচ্ছে কলকাতায়। সপ্তাহের শেষে শহরের কয়েকটি জায়গায় রেভ পার্টিতে অভ্যস্ত, এমন কিছু যুবক-যুবতীর কাছে বিপুল চাহিদা এক্সট্যাসি বা মলি তথা এমডিএমএ, এলসিডি, কোকেনের মতো বিদেশি মাদকের। সাধারণত ডার্ক ওয়েবে অথবা গোপন এজেন্টের মাধ্যমে বিদেশের মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এর পিছনে রয়েছে কলকাতার এজেন্টও।
সম্প্রতি বিদেশি মাদকের জন্য ব্যাঙ্কক ও তাইল্যান্ডের কয়েকটি শহরের পাচারকারীদের সঙ্গে যে কলকাতার মাদক পাচারকারীদের এজেন্টরা যে যোগাযোগ করছে, তা জানতে পারেন কলকাতা পুলিশের এসটিএফের গোয়েন্দারা। সেইমতোই খোঁজখবর নিয়ে তারা জানতে পারেন যে, পর্যটক সেজে এদিনই ভবানীপুরের একটি হোটেলে উঠছে দুই বিদেশিনী। এদিনই তাঁদের ওই মাদক কলকাতার মাদক পাচারকারীদের এজেন্টের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল।
প্রাথমিকভাবে জেরার মুখে ধৃত বিদেশিনীরা গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, তাঁদের মাদক পাচারের ব্যাপারে প্রশিক্ষণ রয়েছে। এতটাই গোপনীয়তার সঙ্গে তারা মাদক বয়ে নিয়ে আসে যে, ব্যাঙ্কক বা কলকাতার বিমানবন্দরে তাদের ব্যাগ স্ক্যানারে পরীক্ষা করেও ধরা পড়েনি। এর আগে তাঁরা কলকাতা বা দেশের কোনও শহরে বিদেশি মাদক পাচার করেছেন কি না, গোয়েন্দারা তা জানার চেষ্টা করছে। গোয়েন্দাদের মতে, কলকাতার এজেন্টরা এই বিদেশিনীদের শহরে থাকা ও ঘোরার ব্যবস্থাও করে দেয়। তাঁদের জেরা করে কলকাতার মাদক পাচারকারীদের সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।