• ফাঁকা জমিতে আগাছার জঙ্গল সরাতে পুরমন্ত্রীর দাওয়াই
    এই সময় | ২২ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়, আসানসোল: চারপাশে ঘন জনবসতি। তার মধ্যে এক চিলতে অব্যবহৃত ফাঁকা জমি। তা ক্রমে আগাছার জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। জমা হয়েছে আবর্জনার স্তূপ। জল জমে জমি যেন ডোবার আকার নিয়েছে।

    এমন অবস্থায় অব্যবহৃত জমিতে বেড়েছে সাপ, মশা–সহ আরও নানা পতঙ্গের উপদ্রব। সমস্যায় পড়েছেন প্রতিবেশীরা। পুর কর্তৃপক্ষকে বার বার বলেও জঞ্জাল সাফাই হয় না। খোঁজ নেই অব্যবহৃত জমির মালিকেরও। ফলে গাঁটের কড়ি খরচ করে প্রতিবেশীরা সাফাই করাচ্ছেন সেই আবর্জনা।

    এমন সঙ্কট থেকে মুক্তির উপায় বাতলে দিলেন রাজ্যের পুর এবং নগরোন্নয়ণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, ঘন জনবসতির মধ্যে এমন কোনও অব্যবহৃত জমিতে গজিয়ে ওঠা আগাছার জঙ্গল ও আবর্জনা সাফাইয়ের দায়িত্ব নিতে হবে জমির মালিককেই। পুরসভা তার দায়িত্ব নেবে না। অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘রাজ্য জুড়েই এই ব্যবস্থা চালু করার নিয়ম বেঁধে দিচ্ছি।’ কিন্তু প্রশ্ন হলো, অনেক ক্ষেত্রেই জমির মালিকের খোঁজ পাওয়া যায় না। সেই সমস্যার সমাধান মিলবে কিসে? পুরমন্ত্রীর বার্তা, প্রতিবেশীদের থেকে জমির মালিকের হদিশ মিলবে। স্থানীয় পুর প্রশাসন সেই জমির মালিককে দিয়ে সাফাইয়ের কাজ করাবেন।

    পুর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, শহরাঞ্চলে এটি ক্রমশ বড় সমস্যা হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বর্ষার সময়ে আগাছার জঙ্গল ফুলে–ফেঁপে ওঠে। ফাঁকা জমিতে আশপাশের বাসিন্দারা বর্জ্য ফেলেন। ফাঁকা জমি বলে পুরসভার সাফাইকর্মীরাও তা নিয়ে মাথা ঘামান না। ফলে ওই সব অঞ্চলে ডেঙ্গি ও নানা ধরনের পতঙ্গবাহিত অসুখ হচ্ছে। আসানসোল পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দীপক গঙ্গোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর এটি আদর্শ অঞ্চল। ডেঙ্গি প্রতিরোধ করতে হলে আগাছার জঙ্গল ও আবর্জনা সাফাই করতেই হবে।

    আসানসোল পুরসভার সাফাই দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক ওয়ার্ডে একই পরিস্থিতি হয়ে রয়েছে। ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সঞ্জয় কবিরাজ বলছিলেন, ‘এলাকার প্রায় তিনটি অঞ্চলে প্রত্যেক বছর বর্ষার আগে প্রতিবেশীরা চাঁদা তুলে আবর্জনা ও আগাছার জঙ্গল সাফ করেন। না–হলে মশা মাছির উপদ্রবে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।’ এ ক্ষেত্রে পুরসভা কঠোর পদক্ষেপ করলে ওই সব অব্যবহৃত জমির মালিকের হদিশ মিলবে।

  • Link to this news (এই সময়)