এই সময়, রায়গঞ্জ: বাংলাদেশি সন্দেহে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ৩২ দিন পরেও খোঁজ নেই এক বৃদ্ধের। জলিল আখতার নামে ওই বৃদ্ধ এখন কোথায় আছেন, সে বিষয়ে পুলিশ বা প্রশাসন কোনও স্পষ্ট জবাব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ পরিবারের। জলিলকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
পুলিশের দাবি, জলিলের নথিপত্রে ত্রুটি থাকার কারণে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ৩২ দিন আগে এক রাতে ডালখোলা থানার পুলিশ বাংলাদেশি সন্দেহে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় জলিলকে। পরদিন সকালে পরিবারের লোকজন থানায় গেলে পুলিশের তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় বৈধ নথি নিয়ে এলে জলিলকে ছেড়ে দেওয়া হবে। পরিবারের সদস্যরা নথিপত্র নিয়ে থানায় উপস্থিত হন।
কিন্তু অভিযোগ, পুলিশ আর তাদের সঙ্গে দেখাই করেনি। উল্টে জানানো হয়, বিষয়টি নিয়ে তাদের আর কিছু বলার নেই, প্রশাসন দেখবে। এরপরই বৃদ্ধকে চাকুলিয়ার নিজামপুর হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়। কিছুদিন পরে পরিবার জানতে পারে, তাঁকে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য শিলিগুড়ির ফুলবাড়ি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকেই বাংলাদেশে পুশব্যাক করার পরিকল্পনা চলছে। অথচ জলিল আখতারের জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই দেশেই। তাঁকে জোর করে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হবে বলে খবর মিলতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের প্রতিবাদের পর প্রশাসন বৃদ্ধকে ফের নিজামপুর হোল্ডিং সেন্টারে ফিরিয়ে আনে।
জলিল আখতারের মেয়ে কুনসুম খাতুন বলেন, 'চার দিন আগেও নিজামপুর হোল্ডিং সেন্টারে বাবার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। কিন্তু গতকাল থেকে তিনি আর সেখানে নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে আমরা জেনেছি, পুলিশ গাড়িতে করে বাবাকে কোথাও নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু কোথায় নিয়ে যাওয়া হলো, সে বিষয়ে কোনও তথ্যই দেওয়া হচ্ছে না।'
মঙ্গলবার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকে ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতির জেলা আহ্বায়ক দুলাল রাজবংশী বলেন, 'জলিল আখতারের কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের সমস্ত বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক ভাবে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। পুশ ব্যাক করার প্রস্তুতি চলছে।' যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে ইসলামপুর পুলিশ জেলার সুপার রাকেশ সিং বলেন, 'নির্দিষ্ট আইন মেনেই সমস্ত কাজ করা হচ্ছে। ওকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে নথিতে ত্রুটি পাওয়া গিয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। আগামীতে আইন মেনেই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।'