\বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, আসানসোল
ওঁরা স্বামী-স্ত্রী। একজন চোখে দেখতে পান না। অন্য জন হাঁটাচলায় অসমর্থ। একজনের বার্ধক্য ভাতা, অন্য জনের মানবিক ভাতা (বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের জন্য পেনশন প্রকল্প) গত কয়েক মাস ধরে। সরকারি আবাসনের কাজও বন্ধ হয়ে গিয়েছে মাঝপথে। এই মুহূর্তে সেই দম্পতির ভরসা স্থানীয়দের সহায়তা।
যেখানে এই দম্পতির বাস, তার মাথায় নেই ছাদ। কালো প্লাস্টিক দিয়ে কোনওক্রমে তা ঢাকা রয়েছে। নেই আলোর ব্যবস্থাও। দম্পতির একটাই অনুরোধ, বিডিও অথবা এই কেন্দ্রের নির্বাচিত বিধায়ক এসে একবার তাঁদের অবস্থা দেখে যান।
এই ছবি জামুড়িয়া ব্লকের চিচুড়িয়া গ্রামের নিচুপাড়ার। এখানেই থাকেন ৬৭ বছরের সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্ধ্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুব্রত দৃষ্টিহীন এবং শ্রবণ–প্রতিবন্ধী। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সন্ধ্যা হাঁটতে পারেন না। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, তাঁদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে সরকারি আবাসন প্রকল্পের অধীনে একটি বাড়ি মঞ্জুর করা হয়েছিল। প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকাও তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। সেই টাকা দিয়ে পুরোনো, ভাঙাচোরা ঘর ভেঙে নতুন বাড়ির কাজ শুরু করেন তাঁরা। কিন্তু এর পরেই থমকে যায় নির্মাণকাজ। অভিযোগ, প্রথম কিস্তির পরে আর কোনও টাকা মেলেনি। ফলে অসমাপ্ত থেকে গিয়েছে বাড়ি তৈরির কাজ।
সন্ধ্যা পেতেন মানবিক ভাতা, স্বামী সুব্রত বার্ধক্য ভাতা। গত দু’তিন মাস ধরে সেই ভাতাও বন্ধ বলে অভিযোগ। কোনও উপার্জন না-থাকায় প্রতিবেশীদের সাহায্য এবং ভিক্ষার উপরে নির্ভর করেই চলে এই দম্পতির জীবন। প্রতিবেশীরা বলছেন, ‘ওঁদের অবস্থা খুব খারাপ। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত বাকি আবাসনের টাকা দিক এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া ভাতা চালু করুক।’
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপেই এই অসহায় দম্পতির জীবনে ফিরতে পারে স্বস্তি। মাথার উপরে নিরাপদ শক্তপোক্ত ছাদ এবং নিয়মিত সামাজিক ভাতা নিশ্চিত হলেই তাঁরা সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার রসদটুকু পাবেন।
এই বিষয়ে জামুড়িয়ার বিজেপি বিধায়ক বিজন মুখোপাধ্যায় বলছেন, ‘আমি সবটাই শুনেছি। বিষয়টি জামুড়িয়ার বিডিওকে দেখার জন্য বলেছি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে আবাস তৈরির ক্ষেত্রে ওঁরা কতটা কাজ করেছেন, তার ছবি দিয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হয়। যত দূর শুনেছি, ওঁরা তা করতে পারেননি। ভোটের পরে ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাজেটে বরাদ্দ অর্থ এলেই তাঁরা প্রাপ্য পেয়ে যাবেন। ত্রিপল দেওয়া ছাড়াও আইন মেনেই প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে ওই দম্পতিকে।’