• সিকিমে টানেল ধসে স্তূপে উদ্ধার আরও দেহ, কত মৃত্যু? বেশিরভাগই বাংলার শ্রমিক
    আজ তক | ২২ জুলাই ২০২৬
  • সিকিমে আক্ষরিক অর্থেই মৃত্য মিছিল। নামচিতে মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণ হয়ে টানেল ধসে পড়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়ে গেল ২০। এখনও ৫ জন শ্রমিক স্তূপের মধ্যে আটকে রয়েছেন। তাঁরা কী অবস্থায় আছে, জানা যাচ্ছে না। তাই মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং মৃত শ্রমিকদের পরিবার পিছু ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন। আহতদের পরিবারপিছু ৫০ হাজার টাকা। 

    বিষাক্ত মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণ

    সোমবার রাতে নামচির সামারদুং এলাকার তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস নামে। ভিতরে আটকে পড়েন বেশ কয়েক জন শ্রমিক। ধসের জেরে সুড়ঙ্গমুখ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভিতরে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে হঠাৎই বিকট শব্দ শোনা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে ধস নেমে সুডঙ্গমুখ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এর পরেই সেখানে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস লিক হতে শুরু করে।

    মাত্র ৭টি দেহ শনাক্ত করা গিয়েছে

    জানা যাচ্ছে, অন্তত ২৫ জন ওই ভেঙে পড়া টানেলের স্তূপের মধ্যে আটকে ছিলেন। তার মধ্যে ২০ জন বেঁচে নেই। বাকি ৫ জনকে এখনও উদ্ধার করা যায়নি। ২০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন নামচির পুলিশ সুপার সোনম ডি ভুটিয়া। ৭টি দেহ এখনও পর্যন্ত শনাক্ত করা গিয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এনএইচপিসি, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সিকিম পুলিশ, দমকল-সহ বেশ কয়েকটি উদ্ধারকারী দল।

    মৃতদের মধ্যে বেশির ভাগই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা

    টানেল ধসে মৃতদের মধ্যে বেশির ভাগই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে সিকিমে ঘটনাস্থলে গিয়েছেন প্রতিনিধিদল। তাঁরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণকাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা প্রতিরক্ষা দফতরের প্রধান সচিব রাজেশ কুমার সিনহা এবং অন্যান্য শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত আধিকারিকদের কাছ থেকে উদ্ধার অভিযান ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন।

    সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় জানান, এই দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি তাঁদের উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে, নামচিতে মুখ্যসচিব রবীন্দ্র তেলাংয়ের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ডিজিপি অক্ষয় সচদেবা। সেখানে সুড়ঙ্গে চলা উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়। বৈঠকে জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থা, পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের আধিকারিক, এনএইচপিসি লিমিটেড এবং সুড়ঙ্গের নির্মাণকাজে যুক্ত প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যসচিব নির্দেশ দেন, নিহত শ্রমিকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সমস্ত সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করতে হবে।
     
  • Link to this news (আজ তক)