বদলেছে নদীর গতিপথ, তবুও অটুট হাজার বছরের আস্থা! প্রকৃতির কোলে মালদহের এক অলৌকিক শিবধাম, জানুন
News18 বাংলা | ২২ জুলাই ২০২৬
: পাল আমলের ইতিহাস আজও জীবন্ত মালদহের বামনগোলা ব্লকের শিবডাঙ্গি গ্রামে। ধর্মীয় ঐতিহ্য ও প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে একটি বিশাল বটবৃক্ষের তলায় গড়ে উঠেছে প্রাচীন তিলভাণ্ডেশ্বর শিব মন্দির। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো এই মন্দিরটি পাল যুগে হিন্দু রাজাদের আমলে নির্মিত হয়েছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, মন্দিরটির প্রতিষ্ঠা সেই সময়কারই। একসময় এই এলাকার পাশ দিয়েই প্রবাহিত হতো টাঙন নদী। নদী কেন্দ্রিক গড়ে উঠেছিল সমৃদ্ধ জনপদ। সময়ের সঙ্গে নদীর গতিপথ যেমন বদলেছে, তেমনই পরিবর্তিত হয়েছে মানুষের বসতিও। তবে বদলায়নি এই প্রাচীন মন্দিরের ঐতিহ্য ও মানুষের অগাধ বিশ্বাস। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বটবৃক্ষের ছায়াতলে নিত্যপুজো হয়ে আসছে তিলভাণ্ডেশ্বর মহাদেবের।
প্রতিবছর শ্রাবণ মাসে এখানে বিশেষ পুজো ও মেলার আয়োজন করা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত এসে মহাদেবের শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল, দুধ ও বেলপাতা নিবেদন করেন। এক পুণ্যার্থী দীপিকা বর্মন বলেন, “দূর-দূরান্ত থেকে বহু ভক্ত এখানে আসেন। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে মহাদেবের দর্শনে আসা হয়। এখানে এসে একদিকে যেমন ভক্তির অনুভূতি পাই, তেমনই প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন অনুভব করি।”
মন্দির কমিটির সদস্য স্বপন কুমার রায় জানান, “সারা বছরই ভক্তদের আনাগোনা থাকে। তবে শ্রাবণ মাসে লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। ভক্তরা গঙ্গাজল, দুধ ও বেলপাতা নিবেদন করে মহাদেবের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।”
মালদহ শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে বামনগোলা থানার শিবডাঙ্গি গ্রামে অবস্থিত এই প্রাচীন তিলভাণ্ডেশ্বর শিব মন্দিরে মালদহের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও অসংখ্য দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীর আগমন ঘটে। শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়েও প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা এই প্রাচীন মন্দির আজও ভক্তদের কাছে অটুট আস্থা, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে রয়েছে।