একজন বাড়ির ছোট ছেলে, অন্যজন হতে চলেছিলেন বাবা— সিকিমে নিভল দুই স্বপ্ন
News18 বাংলা | ২২ জুলাই ২০২৬
সাউথ সিকিমের সমরদুংয়ে টানেল নির্মাণকাজ চলাকালীন মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা ব্লকের মনমোহনধুরা গ্রামের বাসিন্দা অর্জুন সাউতাল এবং অসমের গহপুরের বাসিন্দা বাবুল বরদৌলুইয়ের। দুই শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পৌঁছাতেই তাঁদের পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক মাস আগে বাড়তি উপার্জনের আশায় সিকিমে শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন অর্জুন সাউতাল। পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য ছিলেন তিনি। বাবা-মা, চার ভাই এবং বৌদিদের নিয়ে বড় সংসারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যেই ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু কাজ করতে গিয়েই প্রাণ হারাতে হল তাঁকে। অর্জুনের মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে মনমোহনধুরা গ্রাম।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মাল মহকুমা থেকে এখনও পর্যন্ত এই টানেল দুর্ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এর মধ্যে মেটেলি ও নাগরাকাটা ব্লক মিলিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, নিহত বাবুল বরদৌলুই গত সাত বছর ধরে ওই প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। শ্রমিকদের দেখভালের দায়িত্বও ছিল তাঁর ওপর। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে সন্তানসম্ভবা এবং সিকিমেই বাবুলের সঙ্গে থাকতেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত বাবুলের মৃত্যুর খবর তাঁর স্ত্রীকে জানানো হয়নি।
বাবুলের দাদা জিন্টু বরদৌলুই কোম্পানির পাশাপাশি সিকিম ও অসম সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, নাগরাকাটা ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে বহু যুবক জীবিকার সন্ধানে ভিন রাজ্যে যেতে বাধ্য হন। তাঁদের দাবি, এলাকায় স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে এমন ঝুঁকি নিয়ে বাইরে কাজ করতে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যেত।