• রেলকর্মীকে পাত্তাই দিচ্ছে না কেউ! বন্ধ গেটের নিচ দিয়েই চলছে যাতায়াত, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা
    News18 বাংলা | ২২ জুলাই ২০২৬
  • : মুর্শিদাবাদে গেটম্যানের গাফিলতিতে গত সপ্তাহেই ঘটে গিয়েছে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, যেখানে প্রাণ গেছে চার স্কুলপড়ুয়া-সহ মোট পাঁচজনের। কিন্তু সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার পরও সাধারণ মানুষের বিন্দুমাত্র সচেতনতা ফেরেনি। তার প্রমাণ মিলল বীরভূমের প্রান্তিক রেলগেটে। সময় বাঁচাতে গেট ফেলা থাকা অবস্থাতেই জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে গেটের নিচ দিয়ে পার হচ্ছেন নিত্যযাত্রীরা। সাইকেল, মোটরবাইক থেকে শুরু করে পায়ে হেঁটে, বিপজ্জনক এই পারাপারের ছবি এখন সেখানে নিত্যদিনের।

    বোলপুর স্টেশন ছাড়ার পরপরই পড়ে এই প্রান্তিক রেলগেটটি, যা শান্তিনিকেতন ও কঙ্কালীতলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। ফলে সারাদিনই এই পথে অজস্র মানুষের যাতায়াত থাকে। একই সঙ্গে এই লাইন দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে প্রচুর দূরপাল্লার ও লোকাল ট্রেন। বন্ধ গেটের নিচ দিয়ে পার হওয়ার সময় সামান্য একটু ভুলই ডেকে আনতে পারে আর এক বড় বিপর্যয়।

    ঝুঁকি নিয়ে পার হওয়া যাত্রীদের এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মেলে চেনা সব অজুহাত। কেউ বলেন, ‘খুব তাড়াতাড়ি ছিল বলেই এভাবে গেলাম’, আবার কেউ বলেন, ‘আর এমন হবে না।’ তবে সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হল গেটম্যানের কথা না শোনার প্রবণতা। রেলগেটের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা আক্ষেপের সঙ্গে জানান, গেট নামানোর পর তারা বারণ করলেও সাধারণ মানুষ তা একেবারেই শোনেন না। গেটম্যানরা যখন তাদের আটকাতে যান, তখন তারা তাড়াহুড়ো করে পালিয়ে যান। কেউ কেউ তো আবার গেটম্যানদের রেলের কর্মী বলেই মানতে চান না।

    এই ঘটনার পর রেল পুলিশের ভূমিকা ও নজরদারি নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনই বড় প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের সচেতনতা নিয়ে। আর কত প্রাণ গেলে মানুষের হুঁশ ফিরবে? সামান্য কয়েকটা মিনিট বাঁচানোর জন্য নিজের জীবনকে কেন এমন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, সেই উত্তর কিন্তু আজও অধরা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)