• দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের উপরে সাদা পোশাকের পুলিশের লাঠিচার্জ আদৌ বৈধ? কী বলছে দেশের আইনকানুন
    এই সময় | ২২ জুলাই ২০২৬
  • নিট-এর প্রশ্ন কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে গত সোমবার (২০ জুলাই) উত্তাল হয়েছিল দিল্লির রাজপথ। ‘সংসদ চলো’ অভিযানের সময়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সেই সময়ে সাদা পোশাকের কিছু লোক নিজেদের পুলিশকর্মী পরিচয় দিয়ে পড়ুয়াদের উপর মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকারী থেকে শুরু করে বিরোধী শিবির, সকলেরই প্রশ্ন— পুলিশের সঙ্গে সাদা পোশাকে কাদের নামানো হয়েছিল? পুলিশের উর্দি ছাড়া কি কেউ এই ভাবে বিক্ষোভ থামাতে লাঠিচার্জ করতে পারে?

    সোমবারের ঘটনার পরে সমাজমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। সেই সব ভিডিয়োর সত্যতা এই সময় অনলাইন যাচাই করেনি। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, পুলিশের সঙ্গে পাজামা-শার্ট পরা কিছু লোকও লাঠি দিয়ে বিক্ষোভকারীদের পেটাচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, উর্দি পরা বহু পুলিশ এবং র‍্যাফ সদস্যও নিজেদের নামের ব্যাজ ঢেকে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, কয়েক জন আন্দোলনকারী এ নিয়ে পুলিশকে প্রশ্নও করেন। তাঁদের নাম জানতে চান। কিন্তু উর্দি পরা সেই ব্যক্তিরা নিজেদের নাম বলতে চাননি। তা থেকেও প্রশ্ন উঠেছে— বিক্ষোভ থামানোর সময়ে পুলিশ কি নিজেদের পরিচয় গোপন করতে পারে?

    আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএসএস)-র ১৪৮-১৬০ (সাবেক সিআরপিসি-এর দশম অধ্যায়) ধারা অনুযায়ী, কোনও জমায়েত বা বিক্ষোভ সরানোর নির্দেশ কেবল ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্দিষ্ট পুলিশ অফিসারই দিতে পারেন। আর যদি কোনও পুলিশ অফিসার নিজের পরিচয়ই প্রকাশ্যে না আনেন, তিনি আইন মেনে চলার নির্দেশ দিতে পারেন না। তাঁর সেই অধিকার নেই।

    এ বিষয়ে ১৯৯৭ সালে ডিকে বসু বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশের কথাও অনেকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন। সেই সময়ে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করার সময়ে পুলিশকর্মীর উর্দিতে তাঁর নাম-পদবি দৃশ্যমান হতে হবে। কোনও ভাবে তা যেন অস্পষ্ট না হয়। যদিও এই নির্দেশ স্রেফ গ্রেপ্তারির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শীর্ষ আদালত আসলে বলতে চেয়েছে, বলপ্রয়োগের সময়ে পুলিশকে নিজেদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতেই হবে। সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টও প্রশ্ন তুলেছিল— পুলিশ যদি সাধারণ পোশাক পরে ডিউটি করে, তবে সাধারণ মানুষ কী ভাবে বুঝবেন যে, তারা সত্যিই পুলিশ?

    প্রাক্তন পুলিশকর্তাদেরও মতে, সাধারণ সন্ত্রাস দমন বা গোপন খবর সংগ্রহের ক্ষেত্রেই সাধারণ পোশাকে কাজ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বিক্ষোভ-আন্দোলন থামাতে নিজেদের পরিচয় গোপন করা উচিত নয় পুলিশের। তবে অনেক সময়ে সমাজমাধ্যমে হেনস্থার মুখে পড়ার আশঙ্কা, আইনি ঝামেলা বা পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে নিচুতলার পুলিশকর্মীরা নিজেদের নামের ব্যাজ ঢেকে রাখেন। তবে এই বিতর্ক নিয়ে দিল্লি পুলিশ সরকারি ভাবে মুখ খোলেনি।

  • Link to this news (এই সময়)