আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভাঙনের মাঝে আরও স্পষ্ট হচ্ছে ভাঙন? যেদিন মমতা নতুন করে পথ চলার ডাক দিলেন, সেদিন থেকেই বিবাদ আরও প্রকশ্যে। হাত ছেড়ে যাওয়ার হিড়িকের মাঝেই, যে কয়েকজন মমতার সঙ্গে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে কল্যাণ অন্যতম। সেই কল্যাণই এবার ক্ষুব্ধ। যদিও ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গল দুপুরে। আচমকা দেখা যায়, একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে নেমে যান কল্যাণ। তার আগে কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি হয় মমতার সঙ্গে। প্রাথমিকভাবে কল্যাণ সেসব বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে চাননি। বক্তব্যের বিষয় নিয়ে বিবাদ প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে তিনি নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা বলেছিলেন। তবে পরে তিনি জানান, ঠিক কী ঘটে মঙ্গলের মঞ্চে। কথা বলার সময় নিয়ে, মমতার মন্তব্যে তিনি সকলের সামনে 'অপমানিত' বোধ করেন বলে সাফ জানান। কল্যাণের হুঁশিয়ারি, মমতা দল তৈরি করেছেন, দল শেষ করবেন তিনিই।
নেত্রীর সুসময়ের সময় তাঁকে একাধিকবার দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কল্যাণ। অভিযোগ, সামনে ভিড় দেখে, বহু লোকের জমায়েত দেখে, মমতা পুরনো মেজাজে ফিরে, কল্যাণের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। বুধবার মঙ্গলের ঘটনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই, একেবারে আরজি কর ইস্যু টেনে এনে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কল্যাণ ব্যানার্জি। তাঁর অভিযোগ, 'আর জি করের সময়, দলের মধ্যে কোনও নেতা মমতাদিকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরাতে চেয়েছিল। এটা সত্য, এটা বাস্তব। সেদিন আমি আর কুণাল দিদির পাশে ছিল। আর কেউ ছিল না।'
আরজি কর-এর ঘটনার সময়, যে বা যাঁরা মমতা ব্যানার্জিকে সরিয়ে দিয়ে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে, তিনি বা তাঁরা কি এখনও দলে? কল্যাণ হেঁয়ালি বজায় রেখে 'বুঝে নিতে' বলেছেন।
এর আগে, মঙ্গলবার কল্যাণ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, 'কুণাল ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, বক্তাদের তালিকায় সৌগত রায় ছাড়া আর কোনও সাংসদের নাম ছিল না; সৌগত রায়ের ‘দিদি’র উপস্থিতিতেই ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। তালিকায় থাকা বক্তা প্রিয়াঙ্কা অধিকারী ও উপাসনা দীর্ঘ সময় ধরে উপস্থিত না থাকায় আমাকেই ভাষণ শুরু করতে হয়েছিল। আমি যখন ভাষণ দিচ্ছিলাম, তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভাস্থলে পৌঁছান এবং মঞ্চে ঘুরে বেড়াতে ৫ মিনিট সময় নেন; ফলে আমাকেও ৫ মিনিটের জন্য ভাষণ থামাতে হয়। একইভাবে ‘দিদি’র ক্ষেত্রেও আমাকে ভাষণ থামাতে হয়েছিল। এরপর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি যে আমি ভাষণ চালিয়ে যাব কি না। তিনি সম্মতি দিলে আমি তা চালিয়ে যাই।'