আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেবল সংবাদমাধ্যমে প্রচার বা খবরের শিরোনাম হওয়াই যথেষ্ট নয়, রাজ্য সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি বিকেন্দ্রীভূত ও উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা— সোমবার বিধানসভায় স্বাস্থ্য দপ্তরের বাজেট সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন ডোমকলের সিপিআই(এম) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। বিধানসভার অলিন্দে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, গ্রামীণ ও প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় সঠিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তৃণমূল স্তরের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে নতুন করে চাঙ্গা করা জরুরি।
আলোচনায় মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, বিগত দেড় দশকে রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রাম থেকে শুরু করে জেলা ও রাজ্যস্তরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তিল তিল করে ভেঙে পড়েছে। বাজেট বরাদ্দ কতটা বাড়ল তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল, সেই অর্থ একদম প্রাথমিক স্তরের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে পৌঁছাচ্ছে কি না এবং তা সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না তা সুনিশ্চিত করা। গ্রামীণ হাসপাতালগুলিতে ডাক্তার খাতা-কলমে থাকলেও অনেকেই নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকেন না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।
আর জি করের মর্মান্তিক অভয়াকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি হাসপাতালের নিরাপত্তার শিথিলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ডোমকলের বিধায়ক বলেন, সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালগুলিতে নিরাপত্তাকর্মী বা ওয়ার্ড বয় নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক স্বজনপোষণের কারণে নিরাপত্তার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। পাশাপাশি, রোগীদের খাবারের সরবরাহকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অশুভ আঁতাত ও নেক্সাস ভাঙতে কড়া নজরদারির দাবি তোলেন তিনি।
এ ছাড়া, গ্রাম থেকে শহরে নির্বিচারে রোগী রেফার করার প্রবণতা বন্ধ করতে রোগী কল্যাণ সমিতি ও তদারকি কমিটিগুলিকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গ্রামীণ আউটডোর পরিষেবা সময়মতো চালুকরণ, গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসায় আশাকর্মীদের কাজের যথাযথ নজরদারি, ব্লাড ব্যাঙ্কের সংখ্যা বাড়ানো এবং আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার পরিকাঠামো পুনরুজ্জীবিত করার ওপর তিনি জোর দেন। মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, স্বাস্থ্য খাতের আসল গলদগুলি চিহ্নিত করে সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিষেবার এই অরাজক পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।