বিচ্ছেদ মামলা চলাকালীন, স্বামীকে ‘শিক্ষা’ দিতে তাঁর ‘বস’ তথা চাকরিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের (চাকরিদাতা) কাছে স্বামীর নামে নালিশ করে চিঠি দেওয়ার প্রবণতা মেনে নেওয়া যায় না। কারণ, এরকম কিছু হলে স্বামীর চাকরিক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। চাকরিও চলে যেতে পারে। আর এ সবের জেরে আখেরে স্ত্রীর খোরপোশের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব পড়তে পারে। এমনটাই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের।
গাজিয়াবাদের এক মহিলার বিচ্ছেদ মামলা চলছে। এ ছাড়া তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে আরও কিছু মামলা চলছে। এই অবস্থায় মহিলার বিরুদ্ধে নতুন করে মানহানির মামলা দায়ের করেন স্বামীর এক বন্ধু। অসমে দায়ের হয়েছিল মামলাটি। কিন্তু ওই মহিলা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন, সেই মামলাটি যাতে গাজিয়াবাদে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়। কারণ, গাজিয়াবাদেই তাঁর বাকি সব মামলা চলছে। সে ক্ষেত্রে তাঁর সুবিধা হবে।
দু’পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখে মামলাটি পাঠানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের মেডিয়েশন সেন্টারে। আদালত, মহিলার আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়েছে, তিনি যেন তাঁর মক্কেলকে বোঝান- দ্বন্দ্ব মিটিয়ে, স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে। এরপরই বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি আর মহাদেবন জানিয়ে দেন, গার্হস্থ্য অশান্তি-ঝগড়া থাকতেই পারে। কিন্তু বিচ্ছেদ মামলা চলাকালীন, স্বামীকে ‘শিক্ষা’ দিতে তাঁর ‘বস’-এর কাছে নালিশ করে চিঠি দেওয়ার প্রবণতা মেনে নেওয়া যায় না।”
প্রসঙ্গত, মহিলার স্বামী পেশায় বায়ুসেনার অফিসার। কিন্তু সার্ভিস রুল অগ্রাহ্য করে তিনি স্বাধীনভাবে একটি ব্যবসাও চালাচ্ছিলেন। স্বামীকে ‘শিক্ষা’ দিতে তাঁর ব্যবসার বিষয়টি, বায়ুসেনা কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখে জানিয়ে দেন মহিলা। এর পরই মহিলার বিরুদ্ধে আদালতে যান স্বামীর এক বন্ধু। মানহানির মামলা করেন।