• আলোচনায় সরকারকে আসতে হবে যন্তর মন্তরে! ‘অনশন ভাঙুন সোনম’, আর্জি অভিজিতের
    প্রতিদিন | ২২ জুলাই ২০২৬
  • আলোচনার জন্য সরকারের তরফে পাঠানো প্রস্তাব খারিজ ‘করল ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। বুধবার সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়ে দিলেন, কথাবার্তার জন্য আমরা কারও বাড়ি বা দপ্তরে যাব না। সরকার যদি আলোচনা চায় তবে ওঁদের যন্তর মন্তরে আসতে হবে। এখানেই আশপাশে কোথাও বসে আলোচনা করব। শুধু তাই নয়, ২৬ দিন অনশনরত পরিবেশকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে এবার অনশন ভাঙার অনুরোধ করলেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

    শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে গত ৩৩ দিন ধরে যন্তর মন্তরে আন্দোলন করছে ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের সংসদ অভিযান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার উত্তাল হয়েছে দেশের রাজধানী। এই ডামাডোলের মাঝেই সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, সংসদে প্রশ্নফাঁস নিয়ে আলোচনায় রাজি সরকার। সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, ‘শিক্ষার্থীরাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আলোচনার সময় বিরোধীরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারে। তাদের কেউ বাধা দেবে না। কিন্তু আলোচনার আগেই যদি শর্তের পাহাড় তুলে ধরা হয়, তাহলে এর অর্থ হল – আপনারা আসলে আলোচনা চান না। আমরা খোলা মনেই জানিয়েছি যে, নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আমরা আলোচনায় প্রস্তুত।’ এমনকী সিজেপির সঙ্গে সরকার যে আলোচনায় প্রস্তুত সে কথাও জানিয়েছে কেন্দ্র।

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়ে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তবে সে ডাকে সাড়া দেয়নি সিজেপি। বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ বলেন, “মন্ত্রী জেপি নাড্ডা আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়ে তাঁর বাড়িতে ডেকেছিলেন। আলোচনা আমরাও চাই। কিন্তু সেই আলোচনা কোনওভাবেই কোনও দপ্তর বা কারও বাড়িতে করতে রাজি নই। যদি সরকার সত্যিই আলোচনা চায়, তবে ওঁদের যন্তর মন্তরে আসতে হবে। এখানে বা আশপাশে কোথাও বসেই বৈঠক হবে।” এর পাশাপাশি গত ২৬ দিন ধরে অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার আর্জি জানিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ভবিষ্যতেও জারি থাকবে। কিন্তু সোনমজি আপনি এই অনশন ভাঙুন। এই দেশের আপনাকে প্রয়োজন রয়েছে।’

    এদিকে সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচিকে মাথায় রেখে নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হচ্ছে দেশের রাজধানী। বুধবারও দেশের নানা প্রান্ত থেকে যন্তর মন্তরে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন পড়ুয়ারা। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ থেকে অতিরিক্ত ২০ কোম্পানি সিআরপিএফ জওয়ানকে জরুরি ভিত্তিতে এয়ারলিফট করে দিল্লি এনেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
  • Link to this news (প্রতিদিন)