• অজ্ঞান করে প্রৌঢ়াকে ‘ধর্ষণ’, প্রমাণ লোপাটে দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা! চাঞ্চল্য ঝাড়গ্রামে
    প্রতিদিন | ২২ জুলাই ২০২৬
  • প্রৌঢ়াকে অজ্ঞান করে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর তাঁর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে খুনের চেষ্টা! কোনও রকমে ওই অবস্থাতেই পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই নির্যাতিতা। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে বেলিয়াবেড়া থানার পুলিশ। অন্যদিকে নির্যাতিতা ওই প্রৌঢ়াকেও ভর্তি করা হয়েছে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, ওই মহিলার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলিয়াবেড়া থানার এক গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব ওই প্রৌঢ়াকে জীবিকার তাগিদে ওড়িশার একটি বাড়িতে রাঁধুনির কাজ করেন। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। এক ছেলে ভিন্‌রাজ্যে কাজ করেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন অপর ছেলে পড়শি জেলার একটি হোমে থাকেন। মেয়ের বিয়ে হয়েছে একই গ্রামে। কাজের সূত্রে বছরের বেশির ভাগ সময় ওড়িশায় থাকলেও মাঝেমধ্যেই তিনি নিজের গ্রামে ফিরে আসেন। ঘটনার দিনও মেয়ের বাড়িতে এসে সেখান থেকে নিজের বাড়ি ঘুরে ফের মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথেএই জঘন্নতম ঘটনার শিকার হন বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। 

    অভিযোগ, রবিবার দুপুরে তিনি মেয়ের বাড়ি থেকে নিজের বাড়ি ঘুরে ফেরার সময় গ্রামেরই বাসিন্দা রৌণক পাণ্ডা একটি চারচাকা গাড়ি নিয়ে একই পথে যাচ্ছিল। সে প্রৌঢ়াকে ‘কাকিমা’ বলে সম্বোধন করে হাটের কাছে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতে তোলে। গ্রামের ছেলে হওয়ায় তাঁকে বিশ্বাস করে গাড়িতে ওঠেন ওই মহিলা। অভিযোগ, গাড়িতে তাঁকে পানীয় জলের সঙ্গে অজ্ঞান করার মতো কিছু খাওয়ানো হয়। এরপর অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে বাহারুনার জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, প্রমাণ মুছে ফেলতে তাঁর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আগুনের তাপে জ্ঞান ফিরতেই কোনও রকমে দৌড়ে কিছু দূরে মোড়ে কর্তব্যরত পুলিশের কাছে পৌঁছে গোটা ঘটনার কথা জানান তিনি।

    পুলিশ দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে তপসিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সেখান থেকে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে গ্রাম থেকেই রৌণক পাণ্ডাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পিছনে আর কেউ আছে কিনা তা জানতে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে। অন্যদিকে নির্যাতিতার মেয়ে বলেন, ”মা প্রায়ই আমাদের বাড়িতে থাকেন। ঘটনার দিন নিজের বাড়ি দেখে ফেরার সময় গ্রামের ছেলে বলে বিশ্বাস করে রৌণক পাণ্ডার গাড়িতে উঠেছিলেন। তাঁকে অজ্ঞান করে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে খুনের চেষ্টা করা হয়। মা কোনও রকমে পুলিশের কাছে পৌঁছে প্রাণে বাঁচেন। আমরা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

    অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃতকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। নির্যাতিতার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)