লাভ জেহাদের অভিযোগ ঘিরে সরগরম খাস কলকাতা (Kolkata)! জোড়াবাগানে নাবালিকাকে জোর করে বিয়ে করার অভিযোগ উঠল এক মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে। বিয়ের পর তাকে নিয়ে অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। হাওড়ার সলপ মোড় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ওই নাবালিকাকে। এমন ঘটনার অভিযোগ পেয়েই পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও পকসো আইনের নির্দিষ্ট ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হয়েছে অভিযুক্ত যুবক। নাবালিকার শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তার গোপন জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
সূত্রের খবর, জনৈক ব্যক্তি নাবালিকাকে জোর করে বিয়ের অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত ১৯ তারিখ বেনিয়াপুকুরের বাসিন্দা আরমান আলম নামে এক যুবক ১৬ বছরের মেয়েটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে জোর করে বিয়ে করে। তারপর এলাকা থেকে পালায়। দেড়দিন ধরে মেয়েটির খোঁজ করে না পেয়ে থানায় আরমানের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন তিনি। পুলিশ তদন্তে নেমে ডোমজুড়ের সলপ মোড় থেকে উদ্ধার করে নাবালিকাকে। সেখান থেকেই গ্রেপ্তার হয় অভিযুক্ত আরমান আলম। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা ছাড়াও পকসো আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
নাবালিকাকে উদ্ধারের পর তার শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। আইন মেনে গোপন জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে। আসল ঘটনা কী, তার তদন্তে নেমে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জোর করে নাবালিকাকে ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা ছিল আরমানের। তাই তাকে এলাকা থেকে দূরে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোটের আগে রাজ্যে এসে বারবারই কেন্দ্রের বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে লাভ জিহাদ, ল্যান্ড জিহাদের মতো ঘটনা ঘটে চলেছে চুপিসারে। সেই কারণে এখানকার জনবিন্যাস বদলাচ্ছে। সংখ্যাগুরুরা ক্রমশ সংখ্যালঘুতে পরিণত হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তাঁরা। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এসব কঠোর হাতে রুখে দেওয়া হবে, এই প্রতিশ্রুতি ছিল বিজেপি নেতাদের। সেই অভিযোগ যে নেহাৎ মনগড়া নয়, উত্তর কলকাতার এই ঘটনাই তা প্রমাণ করে দিল। বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই সঙ্গে সঙ্গে কড়া পুলিশি ব্যবস্থাতেই তা টের পাওয়া গেল।