• ‘গরুর গাড়ির হেডলাইট’, বিধানসভায় ‘প্রতিষ্ঠিত চোর’ অভিষেককে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর
    প্রতিদিন | ২২ জুলাই ২০২৬
  • বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘প্রতিষ্ঠিত চোর’ বলে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তিনি জানান, ‘ভাইপো’র অবস্থা শওকত মোল্লা ও জাহাঙ্গির খানের থেকেও খারাপ হবে। অভিষেকের পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিষেককে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “উনি প্রতিষ্ঠিত চোর। যত ভোটে জিতেছেন, তত ভোটে যদি আপনাকে হারাতে না পারি! মিলিয়ে নেবেন। সওকত, পুষ্পাদের থেকেও খারাপ অবস্থা হবে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “একটি আঞ্চলিক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, গরুর গাড়ির হেডলাইট।”

    বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অভিষেককে ‘ছোঁড়া’ বলেও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “যদি বেঁচে থাকি সুদে-আসলে ২০৩১-এ সব ফেরত দেব।” একুশের মঞ্চ থেকেও ‘হিসাব নেওয়া’র কথা বলেছিলেন তিনি। এবিষয়ে বুধবার পালটা শুভেন্দু বলেন, “আরে বাইরে থাকলে তাহলে তো হিসাব নেবেন!” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই অনেকে মনে করছেন, অভিষেকের জেলযাত্রা আসন্ন। যত ভোটে অভিষেক জিতেছেন তত ভোটে তাঁকে হারানোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “ভাইপোপন্থী তৃণমূলের নাম নিশান পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না, দায়িত্ব নিলাম। কোনও ভোটে জিততে পারবে না কালীঘাট তৃণমূল।”

    কালীঘাট তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে ভিড় নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “অনেকে বলছে একুশে জুলাই করতে দেয়নি। করতে যদি না-ই দিতাম, তাহলে পৃথিবীর কোনও শক্তি আপনাদের সভা করতে দিতে পারত না।” বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কত লোক হয়েছে তারও ‘হিসাব’ দেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “পঞ্চায়েতে ৪০ হাজার চোর আছে। তার ১০ শতাংশ এলেও ৪ হাজার। ৪ হাজার চোর কাউন্সিলর আছে। তার ১০ শতাংশ এলেও তো ৪০০। জেলে ঢুকে বেরিয়ে এসেছে এমন ২৫০-৩০০ জন আছে। জেলে যাওয়ার ভয়ে কলকাতায় এসে লুকিয়ে আছে এরকম ১০০০-১২০০ আছে। সব মিলিয়ে ৪-৫ হাজার তো হতেই পারে।”

    এছাড়াও বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মমতাকে তীব্র আক্রমণ করে শুভেন্দু জানান, বিগত সরকারের আমলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নারী নির্যাতন নিয়ে অসংবেদনশীল ছিলেন। ধর্ষণের রেট চার্ট প্রস্তুত করেছিলেন তিনি। কামদুনী, বারাসত, কাকদ্বীপ, হাঁসখালি, ময়নাগুড়ি, আর জি করে নারী নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছিলেন মমতা। এক একটি মামলা ধরে ধরে সেই মন্তব্যগুলি বিধানসভায় তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বারুইপুরে নাবালিকার ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় বিজেপি সরকার কী ভূমিকা নিয়েছে তা গোটা বাংলা দেখেছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)