• ‘ককরোচ’দের আন্দোলনে পুলিশি ‘অত্যাচার’? CCTV ফুটেজ-সহ ভিডিয়ো সংরক্ষণের নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের
    এই সময় | ২২ জুলাই ২০২৬
  • ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) নেতৃত্বে ছাত্রদের আন্দোলনে পুলিশি ‘অত্যাচার’-এর অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের হয়েছিল দিল্লি হাইকোর্টে। সেই মামলায় বুধবার কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠাল আদালত। ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত CCTV ফুটেজ-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভিডিয়ো ও নথি সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার মামলার শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী এবং দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) এস রাজুর মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। আবেদনকারীদের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন যে, নারীদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে এবং তাঁদের গোপনাঙ্গে আঘাত করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেক-যুক্ত লাঠি ব্যবহার করা হয়েছে এবং পুলিশ কর্মীদের গায়ে কোনও ব্যাজ ছিল না। তাঁরা আরও জানান যে, এই সব দাবির সমর্থনে তাঁদের কাছে ১১০টি ভিডিয়ো রয়েছে।

    এএসজি রাজু পাল্টা যুক্তি দেন যে, আন্দোলনকারীরা উচ্ছৃঙ্খল ছিল। সংসদ অভিযান আটকাতে গিয়ে পুলিশ কর্মীরা আহত হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, এই আবেদনগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো ‘আলোচনায় আসা’ এবং ‘প্রচার পাওয়া’। দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ পাল্টা জানতে চায়, ‘কী ভাবে আপনারা বলতে পারেন যে এটি প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা একটি আবেদন?’

    আবেদনকারীদের আইনজীবীরা আদালতে জানান, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ ও জমায়েত করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। তবে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ মিছিল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে—এ কথা তাঁরা স্বীকার করলেও, সেই নিয়ন্ত্রণের নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা যায় না বলে তাঁরা দাবি করেন।

    অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন ছিল এবং নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও জমায়েত হয়েছিল। ফলে পুলিশি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়।

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ এবং পুলিশের পাল্টা দাবির মধ্যে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, তা CCTV ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখার পরই স্পষ্ট হতে পারে। সেই কারণেই এই সব ভিডিয়ো সংরক্ষণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    প্রশ্ন: দিল্লি হাইকোর্টে কী নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছিল?

    উত্তর: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে ছাত্রদের আন্দোলনে পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের হয়েছিল।

    প্রশ্ন: আদালত কাদের নোটিস পাঠিয়েছে?

    উত্তর: কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।

    প্রশ্ন: আদালত কী নির্দেশ দিয়েছে?

    উত্তর: ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত CCTV ফুটেজ-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভিডিয়ো ও নথি সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    প্রশ্ন: আবেদনকারীদের মূল অভিযোগ কী?

    উত্তর: নারীদের শ্লীলতাহানি, পেরেক-যুক্ত লাঠির ব্যবহার এবং পুলিশ কর্মীদের গায়ে পরিচয়সূচক ব্যাজ না থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    প্রশ্ন: কেন্দ্রের পক্ষে কী যুক্তি দেওয়া হয়েছে?

    উত্তর: এএসজি এস রাজু জানান, আন্দোলনকারীরা উচ্ছৃঙ্খল ছিলেন এবং সংসদ অভিযান আটকাতে গিয়ে পুলিশ কর্মীরা আহত হন।

  • Link to this news (এই সময়)