আন্দোলন ছড়াচ্ছে রাজ্যে রাজ্যে সব স্তরের যোগদানে উদ্বিগ্ন বিজেপি
বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজস্থানে আগেই শুরু হয়েছিল। বিহারে শিক্ষক নিয়োগ ও সরকারি চাকরির দাবিতে দফায় দফায় আন্দোলন চলছে। দিল্লিতে সবথেকে তীব্র আন্দোলন ও বিক্ষোভের রূপ দেখা গেল সোমবার। যন্তর মন্তর থেকে সংসদ অভিযানের ককরোচ জনতা পার্টির পদযাত্রায়। এবার উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে শুরু হয়েছে যুব সমাজের বিক্ষোভ। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা এই বছরের মধ্যেই করার দাবিতে কয়েক হাজার কর্মপ্রার্থী রাস্তায় নেমেছে। তৈরি হয়েছে উত্তরাখণ্ড বেরোজগার সংঘ। কোনো একটি সংগঠন অথবা মঞ্চের নাম কর্মহীন সংঘ। আর সেই সংগঠনের ব্যানারেই আন্দোলন শুরু করেছে কর্মপ্রার্থীরা— এহেন নজিরও নতুন। প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে সচিবালয় পর্যন্ত পদযাত্রা করে মঙ্গলবার এই কর্মহীন সংঘের সদস্য হওয়া কয়েক হাজার যুবক। দিনের পর দিন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ থাকার প্রতিবাদে এই আন্দোলন। এদিকে মঙ্গলবার মুম্বইয়ের আজাদ ময়দান থেকে শিবাজি পার্ক নিশ্ছিদ্র দুর্গে পরিণত হয়েছে। কারণ ককরোচ জনতা পার্টির মুম্বই শাখা দিল্লির ধাঁচে ধরনায় বসতে চলেছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। হাজার হাজার পুলিশ মোতায়েন হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকায়। প্রসঙ্গত, একটি দুটি রাজ্যে নয়। আইজল থেকে রাঁচি। বারণসী থেকে আমেদাবাদ। সোমবার থেকে ককরোচ জনতা পার্টির অনুপ্রেরণায় যুব ও ছাত্র সমাজ রাস্তায় নেমেছে। সবথেকে বড় যে দুর্ভাবনা মোদি সরকার তথা বিজেপির জন্য তৈরি হয়েছে, সেটি হল, বারাণসীতে পৌঁছে গিয়েছে আন্দোলনের আঁচ। সোমাবর বারাণসী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে ধরনা। দলে দলে যুবক-যুবতী যোগ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে গোয়েন্দা বার্তা রয়েছে যে, রাজ্যে রাজ্যে ককরোচ জনতা পার্টির দিল্লি আন্দোলনের অনুকরণে বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মূলত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান— একাধিক ইস্যুতে যুবসমাজের এই আন্দোলনগুলিতে স্লোগান উঠছে। বস্তুত দিল্লির যন্তর মন্তরে এখনও ককরোচ জনতা পার্টির অবস্থান কর্মসূচি চলছে। দেশজুড়ে এই আন্দোলনে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক উভয় পক্ষ নেমে পড়েছে? সেটা বেশি উদ্বেগজনক মোদি সরকারের কাছে।