সন্দীপন দত্ত, কোচবিহার: দলীয় কাউন্সিলারদের বিদ্রোহ। অবশেষে পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ সাহা। পুর চেয়ারম্যানের ইস্তফায় শহরবাসী হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন, দাবি বিজেপির। এদিকে, নতুন বোর্ড গঠনের দাবি জানানোর তোড়জোড় শুরু করল বিদ্রোহী শিবির। এমন অবস্থায় রাজনগরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। বর্তমানে একটা ডামাডোল অবস্থা চলছে পুরসভার অন্দরে। শিকেয় ওঠার জোগাড় রাজার শহরের নাগরিক পরিষেবা।
চেয়ারম্যান পদ থেকে দিলীপবাবুর ইস্তফা দেওয়ার পর উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন। কোচবিহার পুরসভায় এবার তাহলে কী প্রশসক বসতে চলেছে, নাকি বিদ্রোহী কাউন্সিলারদের মধ্যে থেকেই নতুন কাউকে মুখ করে নয়া বোর্ড গঠন হবে। জেলা প্রশাসনের এক পদস্থ কর্তা অবশ্য জানান, এনিয়ে এখনই কিছু বলার অবস্থা তৈরি হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেমন নির্দেশ দেবে, সেই মতো নোটিস জারি করা হবে।
তবে কোচবিহার পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ অবশ্য বিরোধী শিবিরের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, দিলীপ সাহা যখন চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েই ফেলেছেন, তখন আর অনাস্থা প্রস্তাবের কোনো গুরুত্ব থাকল না। এবার পরবর্তী প্রক্রিয়া হল নতুন বোর্ড গঠন করা। নতুন বোর্ড গঠনের জন্য প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব পেশ করা হবে।
কিন্তু কাকে সামনে রেখে গঠন হবে নতুন বোর্ড? এনিয়ে কী কোনো আলোচনা হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, নতুন বোর্ড গঠন নিয়ে এখনই কোনো তাড়াহুড়ো নয়। ঋতব্রতপন্থী বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ জানান, কাকে সামনে রেখে নতুন বোর্ড গঠন করা হবে, তা নিয়ে এখনও কাউন্সিলারদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। সময় হলে সবটাই সামনে আসবে।
এদিকে, চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর দিলীপ সাহা বলেন, আমি কারও চাপের মুখে পড়ে ইস্তফা দিইনি। অনেক আগেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলাম। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ওরা ১৩-১৪জন কাউন্সিলার মিলে আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন। সংখ্যা গরিষ্ঠতা প্রমাণ করার জন্য এগারো জন কাউন্সিলারের সমর্থন আমার প্রয়োজন। তাঁরা এই মুহূর্তে হয়তো আমার সঙ্গে নেই।
উল্লেখ্য, সোমবারই কোচবিহার সদর মহকুমা শাসকের কাছে বিদ্রোহী ১৩ কাউন্সিলার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিন বিকেলে এসডিও’কে ইস্তফাপত্র দেন দিলীপ। যদিও গোটা বিষয়টি মঙ্গলবার সকালে জানাজানি হয়।
চেয়ারম্যানের পদত্যাগ প্রসঙ্গে কোচবিহার জেলা বিজেপির সহ সভাপতি বিরাজ বসু বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকেই ওঁর পদত্যাগ চাইছি। কারণ মানুষ পরিষেবা পাচ্ছে না। উনি বারবার ইস্তফা দিচ্ছি-দেব করছিলেন। চেয়ারম্যানের পদত্যাগের ফলে শহরের মানুষ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। • দিলীপ সাহা।