নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তৃণমূল ভার্সাস তৃণমূল! চিঠি বনাম চিঠি। বুধবার লোকসভা সাক্ষী রইল এমনই ঘটনার। আট বনাম কুড়ির বচসা যে বাঁধবেই, একপ্রকার প্রত্যাশিতই ছিল। তবে বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছাল যে, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদল অধিবেশনের জন্য ‘সাসপেন্ড’ করা হল। আগামী ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চলবে অধিবেশন। ততদিন আর কল্যাণবাবু লোকসভার কক্ষে ঢুকতে পারবেন না। যদিও সংসদের বাইরে আজ তিনি প্রতিবাদে বসবেন বলেই জানা গিয়েছে।
তবে এভাবে সভা মুলতুবি হয়ে যাওয়ার পরের কোনো ঘটনায় সাসপেন্ড করা যায় না বলেই লোকসভার নির্দিষ্ট রুল ৩৭৪(২) উল্লেখ করে স্পিকারকে পালটা প্রতিবাদ জানিয়েছে বিরোধীরা। কল্যাণকে সঙ্গে নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, সাজদা আহমেদ, প্রতিমা মণ্ডল, কে সি বেণুগোপাল, ধর্মেন্দ্র যাদবরা সম্মিলিত সই করে দিলেন চিঠি।
কী ঘটল? বেলা ১২-০৫ মিনিটে সভা মুলতুবি হওয়ার পর বাইরে বেরচ্ছিলেন কল্যাণ। আচমকাই আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগকে দেখে বলে ওঠেন ‘বেইমান’। চিৎকার করে বলেন, ‘বেইমান সব। রাস্তা থেকে তুলে আনা হয়েছিল। সম্মান দিয়ে সাংসদ করা হয়েছে। আর এই বেইমানি। এত করেও তো বাড়ি থেকে বেরতে পারছেন না।’ কল্যাণকে এও বলতে শোনা যায়, ‘৪৫ কোটি টাকা করে নিয়ে বেইমানি।’
ব্যস! ফুঁসে উঠলেন মিতালি বাগ। কল্যাণবাবুর দিকে তেড়ে গেলেন। বললেন, ‘এনাফ ইজ এনাফ। আমি গরিব, তপশিলি বলে যা ইচ্ছা তাই বলবেন? আগেও বলেছেন। আবার এখানেও সংসদে বলছেন?’ মিতালির সমর্থনে এগিয়ে যান বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার, শতাব্দী রায়রা। কেন এভাবে তাঁর জোটের সাংসদকে অপমান? প্রশ্ন তুলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে কল্যাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হন কাকলি ঘোষদস্তিদার। দলবেঁধে যান স্পিকারের চেম্বারে। ওম বিড়লার পরামর্শ মতো জমা করেন লিখিত অভিযোগ।
বেলা দুটোয় বসল সভা। সংসদ বিষয়ক রাষ্ট্রমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল আনলেন মহিলাদের সঙ্গে অভদ্র আচরণের ‘দায়ে’ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব। ওয়েলে তখন চলছে নিট প্রশ্নফাঁস বিরোধী প্রবল বিক্ষোভ। গোলমালের মধ্যেই ধ্বনিভোটে প্রস্তাব পাশ হয়ে গেল। সভাও হয়ে গেল সারাদিনের জন্য মুলতুবি। যদিও কল্যাণ সভার মধ্যেই চিৎকার করে জানিয়ে দিলেন, যা বলেছি ঠিক বলেছি। সংসদে ঢুকতে না দিলেও ময়দানে লড়ে নেব। দেখি কে আটকায়।