• এক সপ্তাহে বেঙ্গল সাফারিতে ৩টি প্রাণীর মৃত্যু, উদ্বিগ্ন বনদপ্তর
    বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারিতে শম্বর সহ তিনটি বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর মৃত্যুতে প্রশ্নের মুখে কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় উদ্বিগ্ন বনদপ্তর। যদিও সরকারিভাবে এবিষয়ে কোনো আধিকারিক মুখ খুলতে চাননি। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তিনটি প্রাণীই বনসংরক্ষণ আইনের ‘শিডিউল-১’ তালিকাভুক্ত। পরপর মৃত্যুর ঘটনায় সাফারির রক্ষণাবেক্ষণ, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও প্রাণীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

    বেঙ্গল সাফারি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে প্রথমে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয় একটি শম্বর হরিণের। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মারা যায় একটি সদ্যোজাত সিংহ শাবক। এরপর ত্রিপুরার সিপাহিজালা চিড়িয়াখানা থেকে আনা একটি বিরল প্রজাতির ‘স্পেকট্যাকলড লেঙ্গুর’ বা চশমা বাঁদরের মৃত্যু হয়। মৃত তিনটি প্রাণীরই ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখন রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে বনদপ্তর।

    পার্কের চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, সাত বছর বয়সি চশমা বাঁদরটির অসুস্থতার কারণে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু হয়েছে। তবে পরপর তিনটি শিডিউল-১ প্রাণীর মৃত্যুতে উদ্বেগ বেড়েছে।

    উল্লেখ্য, গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্য সরকারের প্রাণী বিনিময় কর্মসূচির আওতায় ত্রিপুরার সিপাহিজালা চিড়িয়াখানা থেকে ১৮টি প্রাণী আনা হয়েছিল বেঙ্গল সাফারিতে। এর মধ্যে ছিল একজোড়া সিংহ ‘সুরজ’ ও ‘তনয়া’ এবং একজোড়া বিরল স্পেকট্যাকলড লেঙ্গুর। শিলিগুড়ির পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে গত বছর জুলাই মাসে সিংহী তনয়া তিনটি পুরুষ শাবকের জন্ম দিয়েছিল।

    ঘটনার পর বেঙ্গল সাফারির সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, প্রাণীদের খাবারের মান এবং খাঁচার পরিচর্যা খতিয়ে দেখতে বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করেছে বনদপ্তর। পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এক সপ্তাহে পরপর তিনটি বিরল প্রাণীর মৃত্যুতে পরিবেশপ্রেমী ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যদিও বেঙ্গল সাফারি কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
  • Link to this news (বর্তমান)