জেলার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে অমিল ডিম, ক্ষুব্ধ প্রসূতিরা
বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে ডিমের জোগান বন্ধ। খিচুড়ির সঙ্গে ডিম না মেলায় ক্ষোভ বাড়ছে গর্ভবতী ও প্রসূতিদের মধ্যে। যদিও সরকারিভাবে ডিম সরবরাহ বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশিকা নেই। কেন ডিম দেওয়া বন্ধ? সূত্রের খবর, সমস্যা তৈরি হয়েছে মূলত ডিমের জন্য বরাদ্দ অর্থ ও বাজারদরের বিস্তর ফারাককে ঘিরে। ডিমের জন্য বর্তমানে বরাদ্দ রয়েছে ৬ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু বাজারে ডিমের দর ৯ টাকা। এই পরিস্থিতিতে নির্ধারিত বরাদ্দে ডিম কেনা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের। ফলে জেলার বিভিন্ন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ডিম সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী-সহায়িকা কল্যাণ সমিতির গঙ্গারামপুর প্রজেক্টের সম্পাদিকা অনিন্দিতা দত্ত বলেন, যা বরাদ্দ আসে, তাতে বাজার থেকে ডিম কেনা সম্ভব নয়। তার উপর দু’মাসের বিল এবং অন্য পাওনাও বকেয়া। বরাদ্দ বাড়লে আবার সরকারি মেনু অনুযায়ী ডিম দেওয়া হবে। জেলার এক অঙ্গনওয়াড়ি প্রজেক্ট আধিকারিক বলেন, ডিমের দাম বৃদ্ধির কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কর্মীদের আবেদন রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সমাধান হলে খাদ্য তালিকায় ফের ডিম দেওয়া হবে। অঙ্গনওয়াড়ি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১ জুলাই থেকে জেলার বিভিন্ন প্রজেক্টে খাদ্য তালিকা থেকে ডিম বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শিশু ও প্রসূতিদের শুধুমাত্র খিচুড়ি এবং সবজি দেওয়া হচ্ছে। এতে উপভোক্তাদের মধ্যে যেমন অসন্তোষ বাড়ছে, তেমনি শিশু ও প্রসূতিদের পুষ্টি নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বুনিয়াদপুরের প্রসূতি রিমা মণ্ডল বলেন, ডিম না থাকায় এখন আর কেন্দ্রে যাচ্ছি না। ডিম দেওয়া শুরু হলে আবার নিয়মিত যাব।
সূত্রের খবর, নারী ও শিশুবিকাশ দপ্তরের রাজ্যস্তরের আধিকারিকরা একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করলেও এখনও সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের অভিযোগ, গত মে ও জুন মাসের ডিম ও সবজির বিল এখনও বকেয়া। গত ছয় মাস ধরে ইনসেনটিভ ও মোবাইল ফোন রিচার্জের টাকাও পাননি তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা সংগঠন যৌথভাবে ডিম সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।