বিয়ের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে সিকিমে মৃত্যু মাটিয়ালির শ্যামের
বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৬
সৈয়দ নিজাম, নাগরাকাটা: কনের আশীর্বাদ হয়ে গিয়েছে। পাত্রের আগস্ট মাসে আশীর্বাদ হওয়ার কথা ছিল। সেই পর্ব শেষ হলেই বিয়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়ে যেত। বিয়ের খরচের অর্থ জোগাড় করতেই সিকিমে কাজে গিয়েছিলেন ডুয়ার্সের মাটিয়ালি ব্লকের ইংডং চা বাগানের টন্ডু লাইনের যুবক শ্যাম ওরাওঁ (২৭)। কিন্তু কে জানে বিধাতা কী লিখে রেখেছেন!
সিকিমে সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে শ্যামের। তাঁর মৃত্যুর খবর ডুয়ার্সের বাড়িতে পৌঁছতেই শোকে মুহ্যমান গোটা ইংডং বাগান। একমাত্র উপার্জনকারী ছেলের মৃত্যুর শোকে পাথর হয়ে পড়েছেন শ্যামের মা লালিমুণি ওরাওঁ। ছেলের মৃত্যশোকে নির্বাক লালমুণির চোখের জল শুকিয়ে গিয়েছে। কারও সঙ্গে কোনো কথা বলছেন না।
মৃত শ্যাম ওরাওঁয়ের দাদা সুনীল ওরাওঁ বলেন, আমরা চার ভাই। প্রত্যেকেই আলাদা থাকি। এক ভাই চেন্নাইতে কাজ করে। আমাদের একভাই বছর পাঁচেক আগে মারা যায়। সিকিমে সুড়ঙ্গ ধসে পড়ে শ্যামের মৃত্যুর খবর মঙ্গলবারই পেয়েছি। কিন্তু মাকে জানাইনি। এদিন সকালে জানিয়েছি। কিছুক্ষণ হাউহাউ করে কাঁদলেও মা এখন নির্বাক হয়ে পড়েছেন। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানার পর ঘরের এককোনে মাথায় হাত দিয়ে সকাল থেকে বসেই আছেন। শ্যামের মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা বাড়িতে আসছেন। কারও সঙ্গে কথা বলছেন না মা। ভাইয়ের গ্রাসমোড় চা বাগানে বিয়ে ঠিক হয়েছিল। হবু ভাইবউকে আশীর্বাদও করে এসেছি আমরা। আগামী মাসে মেয়ের বাড়ির লোকজন ভাইকে আশীর্বাদ করতে আসতেন। ধুমধাম করে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য টাকাকড়ি জোগাড় করতেই এই প্রথম ভাই সিকিমে কাজে চলে যায়। কিন্তু ওর মৃত্যু এভাবে হবে, মেনে নিতে পারছি না।
শ্যাম ইংডং চা বাগানে অস্থায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন। মাকে নিয়ে থাকতেন। চা বাগানের কাজের টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল তাঁকে। দেড় মাস আগে সিকিমে কাজে যান। গত সপ্তাহেই মায়ের সঙ্গে ফোনে কথাও হয়েছিল শ্যামের। মাস শেষ হলেই টাকাপয়সা নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ভাগ্যের কী পরিহাস, বুধবার রাতে কফিনবন্দি হয়ে তাঁর দেহ এল চা বাগানের বাড়িতে। • মৃত শ্যাম ওরাওঁ।