• দাদা, বোনদের সঙ্গে স্কুলে ঢোকায় শিশুদের মারধর! সামশেরগঞ্জে কাঠগড়ায় প্রধান শিক্ষক
    বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ওরা দাদা, বোনদের পিছু পিছু রোজ স্কুলে চলে আসে।  স্কুলে ভরতি না হয়ে গুটি গুটি পায়ে একরত্তিদের এভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়া ভালভাবে নেননি প্রধান শিক্ষক। আর সেই অপরাধেই একদল একরত্তিকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে! ঘটনার জেরে বুধবার মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ  ব্লকের নতুন শিবপুর প্রাথমিক স্কুলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। প্রতিবাদে প্রধান শিক্ষককে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা। খবর পেয়ে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।  উত্তেজিত জনতা প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। ধুলিয়ান সার্কেলের অবর স্কুল পরিদর্শক হোসনেয়ারা খাতুন বলেন, ঘটনাটি মৌখিকভাবে শুনেছি। ঠিক কী ঘটেছে, তা সরেজমিনে তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হবে।

    স্থানীয়দের দাবি, ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিবরাম সরকার দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রছাত্রীদের উপর এমন শারীরিক নির্যাতন চালান। বুধবার সকালে পাড়ারই কয়েকজন শিশু দাদা-বোনেদের সঙ্গে স্কুলে ঢুকে পড়েছিল। অভিযোগ, শিশুগুলি ভরতি না থাকা সত্ত্বেও কেন স্কুল প্রাঙ্গণে এল এই অজুহাতে তাঁদের উপর চড়াও হন প্রধান শিক্ষক। বেতের আঘাতে শিশুদের পিঠে ও হাতে মারধরের স্পষ্ট দাগ ফুটে ওঠে। খবর ছড়াতেই অভিভাবকরা স্কুলে আছড়ে পড়েন। লাইলি বিবি নামে এক অভিভাবকের ক্ষোভ, সামনের বছরই ছেলেকে এই স্কুলে ভরতি করাব। পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে ও ভুল করে স্কুলে ঢুকেছিল বলে এভাবে মারবে? বাচ্চার পিঠে স্পষ্ট ছড়ির দাগ! 

    স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, স্কুলে ডিম ও খাবার দেওয়া হয় সেই লোভেই হয়তো শিশুরা চলে আসে। তাই বলে ছোটো শিশুদের এভাবে মারা ঠিক হয়নি। বাচ্চারাই বলছে প্রধান শিক্ষক মেরেছেন। 

    যদিও শারীরিক মারধরের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শিবরামবাবু কোনো সদুত্তর দেননি। শুধু বলেন, ‘অফিসে ব্যস্ত আছি’, এই বলেই ফোন কেটে দেন।
  • Link to this news (বর্তমান)