নদীয়া: দোগাছি পঞ্চায়েতে পদ্ম প্রধানের বিরুদ্ধে দলেরই ১৪ সদস্যর অনাস্থা!
বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের দোগাছি পঞ্চায়েতে বিজেপির অন্দরের কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এল। বিজেপি পরিচালিত এই পঞ্চায়েতের প্রধান রন্টু সর্দারের বিরুদ্ধেই অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন দলের ১৪ জন সদস্য। বৃহস্পতিবার অনাস্থা সংক্রান্ত তলবি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই বৈঠকে প্রধান নিজের পদ ধরে রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ প্রধানকে অপসারণ করতে গেলে আরো দু’জনের সমর্থন লাগবে বিজেপি সদস্যদের।
দোগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ৩০টি আসনের মধ্যে বিজেপির দখলে রয়েছে ১৭টি। তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য ১১ জন। এছাড়া সিপিএম ও কংগ্রেসের একজন করে সদস্য রয়েছেন। সংখ্যার নিরিখে বিজেপির বোর্ড থাকলেও দলের অধিকাংশ সদস্যই প্রধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি কার্যত জটিল হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনা বিজেপির সাংগঠনিক ঐক্যের উপর বড়োসড়ো প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব এবং প্রধানের মধ্যে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস বলেন, এই পঞ্চায়েত প্রধান দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, সেটা সবাই জানে। আমরা সবাইকে নিয়ে বসেছিলাম। সেখানে প্রধানের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠে আসে। অধিকাংশ সদস্যই প্রধানের বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন। এখন সদস্যরা একজোট হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন। দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই পাল্টা বিস্ফোরক প্রধান রন্টু সর্দার। তাঁর দাবি, জেলা সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস তৃণমূলের সঙ্গে মিলিত হয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। ১৪ জন সদস্যকে দিয়ে অনাস্থা ডেকেছেন। জেলা সভাপতি তৃণমূল ও সিপিএমের সদস্যদের অন্যত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। তৃণমূলকে সঙ্গে নিয়ে বোর্ড গঠনের চেষ্টা চলছে। অথচ এতদিন আমরা তৃণমূলের বিরুদ্ধেই লড়েছি।
বৃহস্পতিবারের তলবি সভার ফলাফলের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হলে বিজেপি পরিচালিত এই পঞ্চায়েতের নেতৃত্বে বড়ো পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দোগছি পঞ্চায়েতের প্রধান রন্টু সর্দার। -নিজস্ব চিত্র