তিন মাস ধরে লোকপ্রসার প্রকল্পের ভাতা পাচ্ছেন না ঝাড়গ্রামের শিল্পীরা
বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের লোকশিল্পীরা লোকপ্রসার প্রকল্পের ভাতা পাচ্ছেন না। শিল্পীরা প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরছেন। প্রকল্প থেকে অনেকেই নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা করছেন। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা ভাতা বন্ধ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
ঝাড়গ্রামের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আদিবাসী লোকনৃত্য, গান জুড়ে রয়েছে।জেলার শিল্পীদের হাত ধরে ঝুমুর,ভূয়াং,ডোমকচ,পাইকা, রণপা, চাং নৃত্য আজও টিকে রয়েছে।ঝাড়গ্রাম জেলায় ১৩ হাজার লোকশিল্পীর নাম নথিভুক্ত রয়েছে।গত তিনমাস ধরে লোকশিল্পীদের ভাতা দেওয়া হচ্ছেনা। শিল্পীদের মধ্যে যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।লোকপ্রসার প্রকল্পে ষাট বছরের কমবয়সী শিল্পীরা প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে ভাতা পান। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের এক হাজার টাকা দেওয়া হত। সেইসঙ্গে৬০ বছর বয়স হলে শিল্পীদের প্রতি মাসে এক হাজার টাকা পেনশনের ব্যবস্থা ছিল। প্রকল্পের টাকাএতদিন সরাসরি শিল্পীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেঢুকেযেত। জেলার লোকশিল্পীরা ভাতা না পাওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন। জামবনী ব্লকের দুবড়া গ্ৰামের পরভা নৃত্যশিল্পী পরিমল দলাই বলেন, তিন মাস ভাতার টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। জেলার তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরে গিয়েছিলাম। স্পষ্ট কোনো উত্তর না পেয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি। চিল্কিগড়ের প্রাচীন এই নৃত্যশিল্পের পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা শুরু হয়েছে। ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ বুঝতে পারছিনা। জামবনীর চাং নৃত্য শিল্পী খোকন দলাই বলেন , আমাদের দলের নাম মা শীতলা চ্যাং সম্প্রদায়। দলে আটজন সদস্য রয়েছেন।মূলত লোধাশবর গোষ্ঠীর মানুষ পুজো পার্বণও অনুষ্ঠানে চ্যাং নৃত্য পরিবেশন করে থাকেন। বিগত সরকারের সময় এই নৃত্যের পুনর্জীবন চেষ্টা শুরু হয়েছিল। গত তিন মাস ধরেভাতা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। সরকারি দপ্তর থেকেও আমাদের কিছু বলা হচ্ছে না। নতুন সরকারের আমলে প্রকল্পের ভাতা বন্ধ হবে না বলেই আশা করছি। জেলা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর সূত্রের খবর, লোকপ্রসার শিল্পের ভাতা দেওয়ার বিষয়ে রাজ্য সরকারের তরফে কোনো নির্দেশিকা আসেনি ।