ময়না কলেজে যৌন হেনস্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্তক্ষেপ দাবি
বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ময়না কলেজে অস্থায়ী কর্মীর উপর যৌন নিগ্রহের ঘটনায় ইউনিভার্সিটির হস্তক্ষেপ চাইলেন সেখানকার অস্থায়ী কর্মীদের একাংশ। বুধবার বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর দেবযানী দাসের নেতৃত্বে দুই সদস্যদের একটি টিম ওই কলেজে সারপ্রাইজ ভিজিটে আসে। মূলত কলেজের পঠন পাঠন, প্রশাসনিক কাজকর্ম ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে এই ভিজিট ছিল। আড়াই ঘণ্টার ভিজিট পর্ব শেষে কলেজের অস্থায়ী কর্মীরা দেবযানীর দাসের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। কলেজের ভিতর অধ্যক্ষর হাতে এক মহিলা অস্থায়ী কর্মী যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই প্রতিনিধির কাছে নালিশ জানান। তাঁরা এনিয়ে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষকে হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানান। জবাবে দেবযানীদেবী জানান, এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিশেষ করণীয় কিছু নেই। অস্থায়ী কর্মীদের তাঁর পরামর্শ, কলেজের ইন্টারনাল কমপ্লেন কমিটি (আইসিসি)-এর হাতে বিষয়টি নিয়্যে অভিযোগ করুন। কলেজ প্রশাসকের নজরে আনুন।
ময়না কলেজের লাইব্রেরি রুমের মধ্যে এক মহিলা অস্থায়ী কর্মীকে অধ্যক্ষ যৌন হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ। গত ১৭ জুলাই এনিয়ে ওই মহিলা ময়না থানায় প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার পর ২১ জুলাই থেকে থেকে অধ্যক্ষ ছুটিতে আছেন। তাঁর জায়গায় ইন-চার্জ হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ইতিহাসের অধ্যাপক সমীর মণ্ডল। মঙ্গলবার সমীরবাবু এনিয়ে কলেজের সকল শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর সঙ্গে সেমিনার হলে মিটিংয়ে বসেন। সেখানে প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে কী করণীয়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বুধবারও এনিয়ে বিশেষ বৈঠক হবে বলে প্রত্যেকের মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন অধ্যক্ষর দায়িত্বে থাকা সমীরবাবু। কিন্তু, এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ইউনিভার্সিটি থেকে দুই সদস্যের একটি টিম সারপ্রাইজ ভিজিট করতে কলেজে চলে আসেন। যে কারণে এদিন কলেজের সকল শিক্ষক ও অশিক্ষককে নিয়ে জরুরি মিটিং হয়নি।
ইউনিভার্সিটির টিম ভিজিট শেষ করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাদের মুখোমুখি হন কলেজের অস্থায়ী কর্মীরা। তাঁরা নিগৃহীত ওই মহিলা কর্মীর পাশে দাঁড়িয়ে এনিয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলের কাছে আর্জি জানান। এদিন অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মোবাইল বন্ধ করে রাখায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। কলেজের প্রশাসক অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ময়না কলেজে অভিযোগ সম্পর্কে আমি জেনেছি। এনিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।