নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: রাজ্য সরকারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী-আধিকারিক ও অবসরপ্রাপ্ত পেনশনপ্রাপকদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তি অবশেষে বুধবার জারি হল। চার সদস্যর কমিশনের চেয়ারপার্সন হলেন গুজরাত ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অতনু চক্রবর্তী। অবসর নেওয়ার আগে তিনি কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স সচিব ছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে কমিশনে আরও দুজন অর্থনীতিবিদকে রাখা হয়েছে। তাঁরা হলেন, সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের সিনিয়র ফেলো ডঃ পার্থ মুখোপাধ্যায় ও জোকা আইআইএমের অর্থনীতির অধ্যাপক ডঃ পার্থ প্রতিম পাল। কমিশনের সদস্য সচিব হয়েছেন রাজ্য অর্থ দপ্তরের সচিব আইএএস দেবীপ্রসাদ কারানাম। অন্য কোনো কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী-আধিকারিক গতবারের মতো এবারের কমিশনে নেই। অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৬ মাসের মধ্যে কমিশনকে রিপোর্ট দিতে হবে। তবে প্রয়োজনে সময়সীমা বৃদ্ধি ও সরকারের কাছে অন্তবর্তী রিপোর্টও পেশ করার সুযোগ থাকছে। বেতন কাঠামোর সঙ্গেই কর্মচারীদের ডিএ’র বিষয়টিও দেখবে কমিশন।
রাজ্য সরকারের দপ্তরগুলি ছাড়াও সরকারি আর্থিক অনুদানে চলা শিক্ষা, পুরসভা, পঞ্চায়েত প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান, স্বশাসিত সহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা বেতন কমিশনের আওতায় পড়বে। মোট ১৩০ টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার তালিকাও দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। সপ্তম কমিশনকে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে ডিএ’র বিষয়ে যথাযথ ফর্মুলেশনের বিষয়ে ও বিভিন্ন ভাতা নিয়ে সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে এটাও বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের আর্থিক অবস্থা ও অর্থ প্রাপ্তি, দেশের আর্থিক অবস্থা, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের কাঠামো ও তাদের জন্য গঠিত অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ, এমনকি রাজ্য সরকারি সংস্থাগুলির আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তার সুপারিশ দেবে চক্রবর্তী কমিশন।
এদিকে, ১০০ শতাংশ নয়, বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ৮৫ শতাংশ মেটানোর কথা জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে স্টেটাস রিপোর্টে জমা দিয়েছে রাজ্য সরকার। বাকি ১৫ শতাংশের ছাড় চাওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাজ্যের উপর বিপুল আর্থিক বোঝার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৪ কিস্তিতে ২০২৮ সালের মধ্যে বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে সেখানে পুরো ১০০ শতাংশ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।