• জানুয়ারি থেকে পর্ষদ এলাকায় বিদ্যুৎ বিল আসবে প্রতি মাসে
    বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এতদিন সিইএসসি এলাকায় মাসে মাসে বিদ্যুতের বিল মেটাতে হত। আর পর্ষদ এলাকা অর্থাৎ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার আওতাধীন এলাকায় বিল আসত তিন মাস অন্তর। তবে আগামী জানুয়ারি মাস থেকে পর্ষদ এলাকায়ও বিদ্যুতের বিল আসবে প্রতি মাসে। বিজেপি সরকারের বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রথম বাজেটে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিদ্যুৎ দপ্তর তাঁর হাতেই রয়েছে। বুধবার বিধানসভায় দপ্তরের বাজেট পেশ করতে গিয়ে তিনি জানান, আগামী বছরের প্রথম মাস থেকে প্রতি মাসে বিল পাবেন বিদ্যুৎ গ্রাহক। এদিন বিধানসভায় বিদ্যুৎ দপ্তরের উন্নয়ন-পরিকল্পনা সংক্রান্ত বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই বলেন, ‘আমি যা ঘোষণা করব, তাতে বিরোধীদের হৃদকম্পন হয়ে যাবে।’ এরপর বিদ্যুতের মাসিক বিলের বিষয়টি তিনি জানান। তারপর ঘোষণা করেন, ‘ডোমেস্টিকের ক্ষেত্রে স্মার্ট মিটার লাগানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না।’ 

    স্মার্ট মিটারের বিরুদ্ধে এসইউসি, সিপিএমসহ বামপন্থীরা অনেকদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত ঘোষণার পর শুভেন্দু যেভাবে বামপন্থীদের কটাক্ষ করেছেন, তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁর কথায়, ‘বামপন্থীদের হাওয়া বেরিয়ে যাবে। বামপন্থী, এসইউসিদের মিছিল করা বন্ধ হয়ে গেল। আমরা ওদের মিছিল করার সুযোগ দেব না।’ মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য প্রসঙ্গে এসইউসি’র রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টচার্য বলেন, ‘মিছিল করার সুযোগ দেব না, এ কথা বলার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী বাস্তবে স্বীকার করে নিলেন যে আমাদের উদ্যোগে সংগঠিত জন-আন্দোলনের চাপেই সরকার স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক নয় বলে ঘোষণা করতে বাধ্য হল।’

    এতদিন তিনমাস অন্তর বিল এলেও টাকা একবারে অথবা প্রতি মাসের আলাদা করে দেওয়া যেত। জানুয়ারি  থেকে আর তিনমাসের বিল একসঙ্গে দিতে হবে না। কিন্তু, প্রতি মাসে বিদ্যুতের বিল মেটাতে হলে মানুষের কী সুবিধা হবে? সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কেউ কেউ আর্থিক সংকটের কারণে তিনমাসের বিল একসঙ্গে মেটাতে পারেন না সময়ের মধ্যে। তাই প্রতি মাসে বিল তাঁদের সুরাহা দেবে। 

    চলতি আর্থিক বছরে রাজ্য বিদ্যুৎ দপ্তরের ৫ হাজার ৩৪১ কোটি ৪৯ লক্ষ ৫ হাজার টাকার বাজেট ঘোষিত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রাজ্যের মানুষকে বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দিতে সরকার এক গুচ্ছ পরিকল্পনা করেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ৫৪ হাজার আইসিডিএস কেন্দ্রে বিনামূল্যে আলো-পাখার ব্যবস্থা, নিজস্ব কয়লা খনি থেকে কয়লা উৎপাদন, বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশন, কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিদুতের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাবসিডি, গ্রামীণ এলাকায় নাইট মোবাইল ভ্যান দ্বিগুণ করা, কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে কর্মী দ্বিগুণ করা ইত্যাদি কাজের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যবাসীর জন্য উন্নয়েনর শপথ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী বছর পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের পর বুঝিয়ে দেব, ডবল ইঞ্জিন কাকে বলে।’
  • Link to this news (বর্তমান)