বাংলার বাড়ি: মোট অযোগ্যদের ১০ হাজারই দক্ষিণ ২৪ পরগনায়
বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রীতেশ বসু, সৌম্যজিৎ সাহা, কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রাজ্যে পালাবদলের আগে দীর্ঘদিন দিন বন্ধ ছিল প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার কেন্দ্রীয় অনুদান। যে কারণে পূর্বতন সরকার সম্পূর্ণ রাজ্যের কোষাগার থেকে খরচ করে ৩০ লক্ষ ৬০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে ‘বাংলার বাড়ি’ গ্রামীণ প্রকল্পের আওতায় বাড়ি তৈরির টাকা দিয়েছে। কিন্তু অনেকে ওই টাকা পাওয়ার উপযুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। তাই ক্ষমতায় এসেই উপভোক্তা তালিকা পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দেয় বিজেপি সরকার। মাঠ পর্যায়ের এই সমীক্ষা শেষ হতেই সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নবান্নের কাছে জমা পড়া রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যজুড়ে মোট ‘অযোগ্য’ উপভোক্তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৭০৬। অবাক করা বিষয় হল, এর মধ্যে ১০ হাজার ৪৬৬ জন ‘অযোগ্য’ উপভোক্তাই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই তথ্য সামনে আসার পরেই চক্ষু চড়কগাছ নবান্নের শীর্ষকর্তাদের! প্রশ্ন উঠছে, নির্দিষ্ট একটি জেলায় কীভাবে এত সংখ্যক ‘অযোগ্য’ উপভোক্তাকে বাড়ি তৈরির টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে? তদন্তে উঠে আসে, বেশিরভাগই পাকা বাড়ি থাকার পরও নানা কৌশলে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের টাকা নিয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে তৃণমূল স্তরে এমন ব্যক্তিদের যারা টাকা পেতে সাহায্য করেছিল, তাদেরও চিহ্নিত করার কাজ চলছে বলে সূত্রের খবর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার দিকে রাজ্যের বিশেষ নজর থাকবে বলেও জানা গিয়েছে। তবে তার আগে ‘অযোগ্য’দের থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে জেলায় জেলায়। ২১ জুলাই পর্যন্ত ১১টি জেলায় কোনো অযোগ্য উপভোক্তার থেকে টাকা উদ্ধার সম্ভব হয়নি। সব মিলিয়ে ৩৭ জনের থেকে টাকা ফেরত নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ১০টি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার। দপ্তর সূত্রে খবর, ১২ লক্ষ উপভোক্তা দুই কিস্তিতে বাংলার বাড়ির ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে পেয়ে গিয়েছেন। বাকি ১৮ লক্ষ ৬০ হাজার উপভোক্তা পেয়েছেন প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা। জানা গিয়েছে, দু’টি কিস্তির টাকা পাওয়া উপভোক্তাদের মধ্যেই রয়েছে অধিকাংশ ‘অযোগ্য’।